সই-কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে পৌঁছল সিআইডি-র একটি দল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন সংলগ্ন ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ওই কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে গিয়ে প্রথমে বাধার মুখে পড়তে হয় তদন্তকারীদের। প্রায় ঘণ্টাখানেক তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বাদানুবাদের পর শেষ পর্যন্ত কার্যালয়ে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় সিআইডি।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি-র একটি বড় দল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটে পৌঁছয়। বাসে করে মহিলা পুলিশও সেখানে আনা হয়। তবে কার্যালয়ের গেট খোলার আগেই তদন্তকারী দলের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ ও দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী।
শুভাশিসের দাবি ছিল, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকলেও তল্লাশির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। অন্যদিকে, সিআইডি কর্তারা জানান, তদন্তের স্বার্থেই তাঁরা এসেছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তল্লাশি চালানো হবে। অভিষেকের নামে জারি করা নোটিসও দেখানো হয় বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, সই-কাণ্ডে তদন্তকারীদের নজরে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে পাঠানো তৃণমূল বিধায়কদের একটি প্রস্তাবিত চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল। যে বৈঠকে ওই স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, তা কালীঘাটের এই কার্যালয়েই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
তদন্তকারীদের অনুমান, সেই বৈঠকে কারা উপস্থিত ছিলেন, কীভাবে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা— তার সূত্র মিলতে পারে কার্যালয়ের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ থেকে। সেই কারণেই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয় বলে সূত্রের দাবি।
অনেক টালবাহানার পর বিকেল ৪টার কিছু পরে সিআইডি-র দল কার্যালয়ে প্রবেশ করে। বাইরে মোতায়েন ছিল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসেও তদন্তকারীরা পৌঁছেছেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও সই-কাণ্ডের তদন্তে গত ৩০ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়েছিল সিআইডি। ১ জুন তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তদন্তকারীদের কাছে অতিরিক্ত সময় চান। পরে আবার নোটিস দেওয়া হলেও সোমবার পর্যন্ত তিনি হাজিরা দেননি। সেই আবহেই মঙ্গলবারের এই তল্লাশি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।