ভারতীয় ফটোগ্রাফির জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। প্রয়াত হলেন প্রবাদপ্রতীম চিত্রসাংবাদিক রঘু রাই। শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই বর্ষীয়ান আলোকচিত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁর পুত্র নীতিন, যিনি নিজেও একজন চিত্রসাংবাদিক, জানিয়েছেন—দু’বছর আগে প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন রঘু রাই। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও পরে সেই ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে মাথাতেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং বয়সজনিত নানা সমস্যাও দেখা দেয়। রবিবার দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
১৯৪২ সালে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাং-এ জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। ষাটের দশকে তাঁর ফটোগ্রাফির যাত্রা শুরু। ১৯৬৫ সালে নয়াদিল্লির একটি ইংরেজি দৈনিকে চিত্রসাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ধীরে ধীরে নিজের অসাধারণ দক্ষতায় দেশের অন্যতম সেরা ফটোগ্রাফার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান তিনি।
তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দেশের বহু ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী থেকে বাল ঠাকরে, সত্যজিৎ রায়, মাদার টেরেসা এবং দালাই লামা—অসংখ্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁর লেন্সে ধরা পড়েছে। ১৯৭২ সালে তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস বিপর্যয়-এর ভয়াবহ মুহূর্ত তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল, যা আজও ইতিহাসের দলিল হিসেবে বিবেচিত। তাঁর তোলা তাজমহলের ছবি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। বহু আন্তর্জাতিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে তাঁর কাজ প্রকাশিত হয়েছে।
অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ভারতীয় চিত্রসাংবাদিকতার এক স্বর্ণযুগের সাক্ষী। তাঁর প্রয়াণে এক অনন্য অধ্যায়ের অবসান হল বলে মত শিল্প ও সংবাদমহলের।