রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে প্রশাসনিক গতি আনতে ফের স্কুল শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে আলাদা করার পথে হাঁটছে নতুন রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, বাম আমলের পুরনো কাঠামোয় ফিরেই দুটি পৃথক দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হবে দুই পূর্ণমন্ত্রীর হাতে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
বামফ্রন্ট আমলে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা ছিল পৃথক দপ্তর। প্রাথমিক ও স্কুল শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন কান্তি বিশ্বাস এবং পরে পার্থ দে। অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব সামলেছেন সত্যসাধন চক্রবর্তী ও সুদর্শন রায়চৌধুরী।
২০১১ সালে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমদিকে দুটি দপ্তর আলাদা থাকলেও পরে সেগুলিকে একত্রিত করে শুধুমাত্র ‘শিক্ষা দপ্তর’ করা হয়। সেই সময় স্কুল শিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং উচ্চশিক্ষার দায়িত্বে ছিলেন ব্রাত্য বসু। পরে একীভূত দপ্তরের দায়িত্ব সামলান পার্থ চ্যাটার্জি ও ব্রাত্য বসু।
এবার সেই কাঠামোয় বদল আনতে চাইছে নতুন সরকার। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে চলেছে। নতুন মন্ত্রীদের তালিকাও কার্যত চূড়ান্ত। চলতি সপ্তাহেই সেই তালিকা রাজভবনে পাঠানো হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
জানা যাচ্ছে, মন্ত্রিসভার আকার খুব বড় না হলেও রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল ও জাতি-উপজাতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তাপস রায় এবং নিশীথ প্রামাণিক ছাড়া অধিকাংশ নবনির্বাচিত বিধায়কের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রশাসনিক দক্ষতাকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এছাড়াও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে যে সমস্ত জেলায় বিজেপি নিরঙ্কুশ ফল করেছে, সেখানকার একাধিক বিধায়ককে পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হতে পারে। পূর্ণমন্ত্রীর পাশাপাশি কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীর নামও চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে খবর।
গত ৯ মে ব্রিগেডের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। কাজের চাপ কমাতে তাঁদের কিছু দপ্তর নতুন মন্ত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে। তবে স্বরাষ্ট্র, তথ্য ও সংস্কৃতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতেই রাখবেন বলে সূত্রের খবর।