আগের সরকারের সিদ্ধান্ত বদলে এবার থেকে ১ বৈশাখ নয়, ২০ জুন দিনটিকেই সরকারিভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করবে রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার আইনসভায় বাংলাভাগ করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত পৃথক ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাজ্য গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালনের দাবি জানিয়ে আসছিল। কেন্দ্রীয় সরকারও কয়েক বছর আগে এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১ বৈশাখকে ‘বাংলা দিবস’ বা ‘রাজ্য দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। একইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গানটিকে রাজ্য সংগীতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়াত জননেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি বিশেষ উদযাপন কমিটি গঠন করবে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর। ওই কমিটিতে মন্ত্রী, বিধায়ক এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, আগামী ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর একটি মূর্তি স্থাপনের জন্য ভূমিপুজো করা হবে।
তবে এবারের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস কীভাবে পালিত হবে, সে বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে ২০ জুনের পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া হুগলির তারকেশ্বরেও বিশেষ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনের দাবিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তারকেশ্বরেই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিসরে নতুন বিতর্ক এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে।