কলকাতার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিয়েছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চললেও সেই জল্পনায় আপাতত জল ঢাললেন কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এখনও পর্যন্ত মেয়রের কোনও পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে এসে পৌঁছায়নি।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মালা রায় বলেন, “এখনও পর্যন্ত মেয়র কোনও পদত্যাগপত্র আমার কাছে পাঠাননি। পাঠালে আপনারা অবশ্যই জানতে পারবেন।”
উল্লেখ্য, বুধবার নবান্নে একটি বৈঠকের পর তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই মেয়র পদ ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ফিরহাদ হাকিম। কুণালের বক্তব্য ছিল, “ফিরহাদ হাকিম এর আগেও একাধিকবার নেত্রীর কাছে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। এবার নেত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।”
তবে কুণাল ঘোষের ওই মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজে মুখ খোলেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পদত্যাগের বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। ফলে মেয়রের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা আরও জোরালো হলেও পরিস্থিতি এখনও ধোঁয়াশার মধ্যেই রয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভার আসন্ন অধিবেশন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন চেয়ারপার্সন মালা রায়। তিনি জানান, গত ২২ মে পুরসভার যে হাউস বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা আচমকাই বাতিল হয়ে যায়। সেই বিষয়ে আগে থেকে কোনও তথ্য তাঁদের কাছে ছিল না।
মালা রায়ের কথায়, “আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে অন্ধকারে ছিলাম। এরপর ২৯ মে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হই। ৩ জুন শুনানি হয়েছে। আগামী ১৯ জুন দুপুর ২টোয় পুরসভার অধিবেশন ডাকা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী পুরসভার সচিবকে চিঠি পাঠানো হবে এবং আদালতকেও বিষয়টি জানানো হবে।”
পুরসভার অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি কাউন্সিলর মিনা দেবী পুরোহিত বলেন, “হাউস হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। সেখানে কাউন্সিলররা নিজেদের বক্তব্য ও দাবিদাওয়া তুলে ধরতে পারবেন। গত মাসে আমরা কোনও নোটিস পাইনি। তবে অধিবেশন ক্লাব রুমে নয়, কাউন্সিল চেম্বারেই হওয়া উচিত।” ফলে একদিকে মেয়র পদ নিয়ে জল্পনা, অন্যদিকে পুরসভার প্রশাসনিক কার্যকলাপ নিয়ে বিতর্ক— সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।