তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের ইতি টানলেন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। সোমবার সকালে দিল্লি থেকে তিনি তৃণমূলের সদস্যপদ এবং রাজ্যসভার সাংসদ পদ— দুই থেকেই ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আরজি কর-কাণ্ড এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তিনি।
সুখেন্দুশেখর জানান, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার পর থেকেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে এতদিন সময় নিয়েছেন। অবশেষে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দল এবং সাংসদ পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দিল্লিতে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিনই এই সিদ্ধান্ত সামনে এল। ওই বৈঠকে যোগ দিতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে পৌঁছেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শুরুর আগেই সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই সুখেন্দুশেখর রায় দলের নানা বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। বিশেষ করে আরজি কর-কাণ্ডের পর তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। যদিও সেই সময় তিনি দল ছাড়েননি।
সূত্রের খবর, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন সুখেন্দুশেখর। সেই চিঠিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।
দিল্লি থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুখেন্দুশেখর বলেন, আগামী দিনে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকেও অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। যদিও ভবিষ্যতে তিনি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি।
এদিকে সুখেন্দুশেখরের পদত্যাগের পর তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ কোয়েল মল্লিককে নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনিও দল ছাড়তে পারেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোয়েল মল্লিক এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুখেন্দুশেখর রায়ের পদত্যাগ তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। বিশেষ করে দিল্লিতে দলের সাংসদদের মধ্যে ভাঙনের জল্পনার আবহে তাঁর এই সিদ্ধান্ত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়ার দিকে এবং আগামী দিনে সুখেন্দুশেখর রায়ের রাজনৈতিক অবস্থান কী হয়, সেদিকেও।