দিল্লির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার পারদ চড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজধানীতে। রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, অন্তত ২১ জন তৃণমূল সাংসদকে ঘিরে এই জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও তৃণমূল বা বিজেপি— কোনও পক্ষই এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি।
সূত্রের খবর, দিল্লিতে তৃণমূলের একাধিক অসন্তুষ্ট সাংসদ সম্প্রতি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, অসীত মাল, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ চক্রবর্তী, আবু তাহের, সুখেন্দুশেখর রায়, শর্মীলা সরকার, খলিলুর রহমান, জগদীশ বর্মা বসুনিয়া-সহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে। বৈঠকের পর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের জল্পনাকে কেন্দ্র করে। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে বলে আলোচনা চলছে। তারই প্রেক্ষিতে সংসদীয় দলেও ভাঙনের সম্ভাবনা নিয়ে নানা মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় তৃণমূলের কয়েকজন সাংসদের তৎপরতা নজর কেড়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। সূত্রের দাবি, কেউ রাজধানীর বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করেছেন, আবার কেউ সরকারি বাসভবনে থেকে একাধিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। রবিবার দিনভর গ্রুপ কল ও বৈঠকের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশলের একটি মন্তব্যও নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা উসকে দিয়েছে। তিনি বলেন, “হিন্দুদের কেউ যেন সংগঠনের বাইরে না থাকে। সব হিন্দুদের একত্রিত করতে হবে, এক ছাতার তলায় আনতে হবে।” পাশাপাশি তিনি এও বলেন, কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে বিজেপিতে আসতে চাইলে সংগঠনের আদর্শ অনুযায়ী তাঁদের গড়ে তোলার দায়িত্ব দলের।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের ২১ সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন— এমন কোনও সরকারি বা দলীয় ঘোষণা হয়নি। ফলে বিষয়টিকে আপাতত রাজনৈতিক জল্পনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের দিকে নজর থাকছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে।