পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পাঁচ সপ্তাহের মাথায় শুরু হল বৃহৎ নাগরিক পরিষেবা কর্মসূচি ‘জনকল্যাণ শিবির’। সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। রাজ্যের বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভা এলাকায় মোট ১১০০টি শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের মোট ৫৫টি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা এই শিবিরগুলির মাধ্যমে পাওয়া যাবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনকল্যাণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য তিনটি— সাধারণ মানুষকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একই জায়গায় আবেদনপত্র পূরণ, নথি যাচাই ও নথিভুক্তিকরণের ব্যবস্থা করা।
শিবিরগুলিতে অন্নপূর্ণা যোজনা, যুবশক্তি প্রকল্প, পিএম কিসান যোজনা, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা-সহ একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড-সহ বিভিন্ন পরিচয়পত্রে সংশোধনের আবেদনও করা যাবে। সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যা বা অভিযোগ থাকলেও তা সরাসরি জানানো যাবে শিবিরে।
নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এ বছর রাজ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষ গাছ লাগানোর কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রান্তিক মানুষের কাছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। দুর্নীতি, প্রতারণা বা মধ্যস্বত্বভোগীর কোনও জায়গা থাকবে না।”
পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৭০০ কোটি টাকা দিয়েছে এবং মোট ৮৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পাশাপাশি ৭৯ লক্ষ মহিলাকে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, কর্মসূচির প্রথম দিনেই একাধিক জায়গা থেকে অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। উত্তরপাড়ার মণীন্দ্র ভবনে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং প্রশাসনিক কর্তারা পরিকল্পিতভাবে গাফিলতি করেছেন।
অন্যদিকে, পুরুলিয়ার এমএসএ ইন্ডোর স্টেডিয়াম এবং পুরুলিয়া-১ ব্লকের শিবিরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বহু মানুষকে। অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পের ফর্ম না পাওয়া এবং আবেদন পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে অনেকেই সমস্যায় পড়েছেন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করতে এসে মালতী মাহাতো নামে এক মহিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এত গরমে লাইনে দাঁড়িয়ে এসে জানতে পারছি অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আগে থেকে জানানো হলে এই হয়রানি হতো না।”
তবে সরকারের দাবি, প্রথম পর্যায়ের কিছু সমস্যা দ্রুত কাটিয়ে তুলে আগামী দিনগুলিতে আরও কার্যকরভাবে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।