রাজ্য রাজনীতিতে যখন ‘ডিম থেরাপি’ নিয়ে জোর চর্চা চলছে, ঠিক তখনই সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ডিমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। গরম পেরিয়ে বর্ষার শুরুতেই আরও চড়া হয়েছে ডিমের দাম। ব্যবসায়ী এবং ডিম উৎপাদক সংগঠনগুলির দাবি, আপাতত এই দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
মাসের শুরুতে যেখানে এক ট্রে ডিমের দাম ছিল প্রায় ১৮০ টাকা, সেখানে জুনের মাঝামাঝি এসে সেই দাম বেড়ে হয়েছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রে-পিছু দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা।
পশ্চিমবঙ্গ পোলট্রি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মদনমোহন মাইতি জানান, ভ্যাপসা গরম, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়াই ডিমের দাম বাড়ার প্রধান কারণ। তাঁর কথায়, ‘‘ডিম পরিবহণে যুক্ত ট্রাক ও লরি চালকদের থাকা-খাওয়ার খরচ বেড়েছে। শ্রমিকদের মজুরিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই খরচ বাড়ছে।’’
তিনি আরও বলেন, শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, হরিয়ানা ও পাঞ্জাব-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যেই ডিমের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের তরফে জ্বালানির দাম কমানো না হলে আগামী দিনে ডিমের দাম আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বাজারের ব্যবসায়ীরাও একই সুরে কথা বলছেন। বেহালার এক ডিম বিক্রেতার দাবি, গত এক সপ্তাহে একাধিকবার পাইকারি দাম বেড়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই খুচরো বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। গড়িয়াহাটের এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘‘ক্রেতারা দাম নিয়ে প্রশ্ন করছেন, কিন্তু আমাদেরও বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে।’’
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার ডিমের মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে উৎপাদন ঘাটতিও। দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরমে পোলট্রি ফার্মে ডিম পাড়ার হার কমেছে। পাশাপাশি বেড়েছে মুরগির মৃত্যুর ঘটনাও। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম আরও চড়েছে।
এছাড়াও ভুট্টা ও সয়াবিনের মতো পোলট্রি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিক্রি হওয়া ডিমের একটি বড় অংশ আসে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গানা থেকে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেই ডিম পরিবহণের খরচও বেড়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও ডিম এখন আলোচনার বিষয়। সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পচা ডিম ছোড়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ডিম নষ্ট না করে মানুষের পুষ্টির কাজে লাগানো উচিত।
ডিমের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন সরকারি পুষ্টি প্রকল্পেও। বিশেষ করে মিড-ডে মিল প্রকল্পে অতিরিক্ত খরচের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
সব মিলিয়ে, পুষ্টিকর ও তুলনামূলক সস্তা খাদ্য হিসেবে পরিচিত ডিম এখন ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই মত বাজার বিশেষজ্ঞদের।