দেশের জনগণনার ইতিহাসে প্রথমবার ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু হল ‘সেল্ফ এনুমারেশন’ বা স্ব-শুমারি। শনিবার থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা দেশে শুরু হয়েছে এই অনলাইন প্রক্রিয়া, যা চলবে আগামী ১৫ অগস্ট পর্যন্ত। এই পর্যায়ে নাগরিকরা নিজেরাই জনগণনা সংক্রান্ত তথ্য সরকারি পোর্টালে জমা দিতে পারবেন।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসক (কমিশনার) স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিকে সফল করতে শহরের প্রায় ৭০০ সরকারি ও সরকার-পোষিত এবং ৩০০টি বেসরকারি স্কুলের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিতে একজন করে ‘সেন্সাস প্রিফেক্ট’ নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রযুক্তিতে দক্ষ এই পড়ুয়ারা নিজেদের পরিবারের পাশাপাশি আরও অন্তত ১০টি পরিবারকে অনলাইনে স্ব-শুমারিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে।
পুরসভার লক্ষ্য, কলকাতার আনুমানিক ৫৫ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ নাগরিককে স্ব-শুমারির আওতায় আনা। এই কাজে শহরে ৮,২০০ জন এনুমারেটর এবং ১,৪০০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ করা হয়েছে।
মাত্র ১০ মিনিটেই ফর্ম পূরণ
সরকারি জনগণনা পোর্টালে প্রবেশ করে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই ফর্ম পূরণ করা যাবে। মোট আটটি ধাপ সম্পূর্ণ করার পর আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর বা ই-মেলে একটি ১১ অঙ্কের ‘SEID’ পাঠানো হবে। পরবর্তী সময়ে গণনাকর্মীরা বাড়িতে গেলে এই নম্বর দেখাতে হবে। তাই এটি যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে না পারলেও চিন্তা নেই
যাঁরা অনলাইনে স্ব-শুমারি করতে পারবেন না, তাঁদের জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ‘ফিল্ড এনুমারেশন’-এর মাধ্যমে সরকারি গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহগণনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন।
এই প্রথম পর্যায়ে নাগরিকদের ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এতে শুধু পরিবারের সদস্যদের নয়, বাড়ির অবস্থা, সুযোগ-সুবিধা এবং অন্যান্য প্রাথমিক তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।
২০২৭ সালে দ্বিতীয় পর্যায়
ডিজিটাল জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকৃত জনসংখ্যা গণনার কাজ হবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। সেই সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্যের নাম, বয়স, লিঙ্গ-সহ অন্যান্য জনসংখ্যাগত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
প্রশাসনের আশা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ বারের জনগণনা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।