ঘরোয়া বাজারে চিনির দাম লাগামছাড়া। দাম বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে ফের আমদানির নিয়মে বদল আনল কেন্দ্র। এবার ‘ট্যারিফ রেট কোটা’ (TRQ)-র আওতায় আমদানি করা অপরিশোধিত চিনিকে পরিশোধিত করে দু’মাসের মধ্যে দেশের বাজারে বিক্রি করতে হবে।
গত ২৪ অগস্ট বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তরফে সংশোধিত শর্তাবলি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরে আমদানি করা অপরিশোধিত চিনিকে এমন ভাবে প্রক্রিয়াজাত করার নিয়ম ছিল, যাতে তা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা যায়। নতুন নিয়মে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট ভাবে দু’মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হল।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য আমদানি করা চিনি মজুত করে রাখা বা কালোবাজারি রোখা এবং দ্রুত বাজারে সরবরাহ বাড়ানো। চিনির দাম কমিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি উৎসবের মরসুমে চাহিদা সামলাতেও এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে।
চিনির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় এর আগেই কেন্দ্র ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত ভাবে আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ‘ট্যারিফ রেট কোটা’-র অধীনে এই আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ চিনি ব্যবহারকারী সংস্থা, যেমন কোমল পানীয় ও আইসক্রিম প্রস্তুতকারকদের জন্য মজুতের সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে রাজ্যগুলিকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশে চিনির উৎপাদন কমে যাওয়াও দামের উপর চাপ তৈরি করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি মরসুমে চিনির উৎপাদনের অনুমান কমে প্রায় ৩০৬ লক্ষ টনে দাঁড়িয়েছে, যা রাজ্যগুলির প্রাথমিক অনুমান ৩৪৩ লক্ষ টনের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ কম।
এদিকে সোমবার সারা দেশে চিনির গড় খুচরো দাম ছিল প্রতি কেজি ৬৩.০৫ টাকা। এক মাস আগে এই দাম ছিল ৪৮.৭৩ টাকা প্রতি কেজি। অর্থাৎ এক মাসে খুচরো বাজারে চিনির দাম প্রায় ২৯ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আমদানি করা চিনি দ্রুত বাজারে পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে আমদানি করা চিনি বাজারে পৌঁছতে কতটা সময় লাগবে, তা নিয়ে এখনও কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। শিল্পমহলের মতে, কিছু চালান অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের আগেই দেশে পৌঁছতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে চিনির সরবরাহ ও দামের গতিপ্রকৃতির দিকেই নজর থাকবে।