অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা থেকে কোনও ‘যোগ্য’ মহিলা বঞ্চিত হবেন না। শনিবার ভবানীপুরের এক কর্মসূচি থেকে এমনই আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়ার অভিযোগে হওয়া বিক্ষোভ নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ধমকে-চমকে বা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে কোনও সিদ্ধান্ত থেকে সরানো যাবে না।
মাসিক ৩ হাজার টাকার মহিলা ভাতা অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সম্প্রতি রাজ্যের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ হয়েছে। কোথাও পথ অবরোধ, কোথাও আবার রেললাইন অবরোধ করে টাকা না-পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন মহিলারা। এই পরিস্থিতিতে শনিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের নিয়ে ভবানীপুরের সুভাষ উদ্যানে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগস্ট মাসে রাজ্যের ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। তাঁর দাবি, এখনও যদি আরও ২০-৩০ লক্ষ প্রকৃত দাবিদার থাকেন, তাঁদেরও ভাতার আওতায় আনার ব্যবস্থা করবে সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, জুন মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তার সংখ্যা ছিল ২৮ লক্ষ। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ। অগস্টে আরও বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ। প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের সংখ্যা আরও বাড়লে তাঁদেরও সুবিধা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ভবানীপুরের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, চলতি মাসে এই বিধানসভা এলাকায় প্রায় ১৪,৫০০-র বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেয়েছেন। আরও প্রায় আড়াই হাজার মহিলার নাম অনুমোদিত হয়েছে বলে দফতর থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে। অনুমোদিত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে টাকা পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা নিয়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বিরোধীদের নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে কোথাও কোথাও বিক্ষোভে নামানো হচ্ছে। সমাজমাধ্যমে প্রচার এবং ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মাধ্যমেও চাপ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘ধমক-চমক দিয়ে, রিল বানিয়ে, আর মিডিয়া ট্রায়াল করে, ২০ জন লোককে রাস্তায় নামিয়ে… আপনাদের এ সব কোনও বুদ্ধি চলবে না।’’
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সমালোচনার জবাবে পূর্বতন সরকারের আমলের মহিলা ভাতার প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে ৫০০ টাকা এবং ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই অঙ্ক ১,৫০০ টাকা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের আমলে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বেছে বেছে মহিলা ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে যে এলাকাগুলিতে বিজেপি জয়ী হয়েছিল, সেখানকার মহিলাদেরও বঞ্চনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
বর্তমান সরকার সেই বঞ্চিত মহিলাদের অগ্রাধিকার দেবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যাঁরা আর্থিক ভাবে দুর্বল এবং অতীতে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিয়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘শুভেন্দু অধিকারী মাথা নত করার লোক নয়।’’ একই সঙ্গে যোগ্য উপভোক্তাদের কেউ যাতে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির অন্যতম বড় প্রতিশ্রুতি ছিল অন্নপূর্ণা যোজনা। এই প্রকল্পে মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই মহিলা ভাতা চালুও হয়েছে। তবে কারা এই সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে একাধিক শর্ত থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ পালনের ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতায় প্রায় ১ লক্ষ অন্নপূর্ণাকে নিয়ে সভা করবেন তিনি।
অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়ানোর বার্তার পাশাপাশি, প্রকৃত যোগ্য মহিলাদের ভাতা দেওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থানও এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।