প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে মীরাদেবীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ নেন তিনি। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও সাহায্যের প্রয়োজন হলে তাঁকে জানাতেও চিকিৎসকদের অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত কয়েক দিন ধরে পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন ৭৬ বছরের মীরা ভট্টাচার্য। শুক্রবার অসুস্থতা বাড়ায় তাঁকে আলিপুরের উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার সকালে তাঁর একাধিক শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। আপাতত তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
মীরাদেবীর চিকিৎসার জন্য একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে রয়েছেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সরোজ মণ্ডল, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিস্ট ডাঃ শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এবং এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডাঃ সেমন্তী চক্রবর্তী। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আপাতত হাসপাতালে থাকতে হতে পারে তাঁকে।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিট নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছন শুভেন্দু। প্রায় ২৫ মিনিট সেখানে ছিলেন তিনি। মীরাদেবীর চিকিৎসার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রয়োজন হলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের তরফে সবরকম সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মীরাদেবীর অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ঘনিষ্ঠ মহলে। মুখ্যমন্ত্রীর হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করা এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলাকে সৌজন্যের নজির হিসেবেই দেখছেন মীরাদেবীর ঘনিষ্ঠরা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্যোগী হয়েছে সরকার। সেই সময় মীরা ভট্টাচার্যের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসাও শোনা গিয়েছিল।
এদিকে মীরাদেবীর চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসকদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। তাঁর শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ঘনিষ্ঠ মহলে