কলকাতা পুরসভার পর এ বার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের ভবনে দমকলের হানা। সোমবার দুপুরে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনে পৌঁছন দমকল আধিকারিকেরা। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক রয়েছে কি না, কোথাও কোনও গলদ বা অনিয়ম রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পরিদর্শন বলে দমকলের তরফে জানানো হয়েছে।
প্রথমে ভবনের বাইরের অংশ ঘুরে দেখেন দমকল আধিকারিকেরা। পরে ভিতরে গিয়ে পরিদর্শন করা হয় একের পর এক তলা। ওই ভবনের সাত এবং আট তলায় রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস। সেই দু’টি তলাতেও যান আধিকারিকেরা। খতিয়ে দেখা হয় ‘ফায়ার অ্যালার্ম’-সহ অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যবস্থা।
ভবন তৈরির সময় যে নকশা বা পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছিল, তার বাইরে পরে কোনও ‘অবৈধ’ নির্মাণ হয়েছে কি না, তা-ও পরীক্ষা করে দেখা হয়। ভবনের বাইরের একটি শেড নিয়ে আপত্তি জানান দমকল আধিকারিকেরা। এর পর তাঁরা পৌঁছন বেসমেন্টে। সেখানে রয়েছে পার্কিং ব্যবস্থা। বেসমেন্টের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা ঘুরে দেখেন আধিকারিকেরা। পরীক্ষা করা হয় সেখানে থাকা একটি জলের পাম্পও।
আগুন লাগলে বা কোনও আপৎকালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে কী ভাবে তা মোকাবিলা করা সম্ভব, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দমকল সূত্রে খবর। দমকলের কর্তা সরোজ বাগ বলেন, “ফায়ার-অডিট করা হচ্ছে। আমরা সবটাই খতিয়ে দেখছি। এই বিল্ডিংয়ের সব তলায় গিয়ে সেখানকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দেখা হবে।”
তিনি জানান, ভবনটি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী তৈরি হয়েছে কি না, নকশার বাইরে পরে কোনও অংশ তৈরি করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে দমকল আধিকারিক জানান, এটি নিয়মমাফিক ফায়ার অডিট। বিভিন্ন জায়গাতেই এই ধরনের অডিট করা হচ্ছে।
অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তাঁর কথায়, গাফিলতি বা কোনও অনিয়ম নজরে এলে তা জানানো হবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এই পরিদর্শনের সময়টিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, মাত্র কয়েক দিন আগেই ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের বাইরে থাকা একটি বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিল কলকাতা পুরসভা। পুরসভার দাবি ছিল, তৃণমূলের নামাঙ্কিত ওই বিলবোর্ডটি অবৈধ ভাবে বসানো হয়েছিল এবং বিপজ্জনক ভাবে ঝুলছিল। তাই সেটি খুলতে গিয়েছিলেন পুরকর্মীরা।
ওই ঘটনায় পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই সোমবার অভিষেকের দফতর থাকা ভবনে দমকল এবং পুলিশের উপস্থিতি নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
যদিও দমকলের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, নিয়মমাফিক ফায়ার অডিটের অংশ হিসাবেই এই পরিদর্শন করা হচ্ছে। তবে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি বা নকশাবহির্ভূত নির্মাণ ধরা পড়ে কি না, এখন সেদিকেই নজর।