রাখিবন্ধন উৎসবের মঞ্চ থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাবিভাগের দেওয়ালে ‘কিষেণজি স্যালুট’ লেখা এবং সেখান থেকে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’ স্লোগান ওঠা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। কলকাতার রাস্তায় এ ধরনের স্লোগান দেখলে তাঁর কষ্ট হয় বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার রাখিবন্ধন উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন শুভেন্দু। প্রথমে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে যান তিনি। সেখানেই কলকাতার রাস্তায় ‘আজ়াদি’ স্লোগান নিয়ে আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘কলকাতার রাস্তায় যখন দেখি আজ়াদি-আজ়াদি, কষ্ট হয়। কিসের আজ়াদি ভাই? আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ত্যাগ, নেতাজির লড়াই, মাতঙ্গিনী হাজরার বলিদান মনে রাখতে হবে। ভারত তো ১৯৪৭ সালেই স্বাধীন হয়ে গিয়েছিল।’’
এর পরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ তোলেন শুভেন্দু। তাঁর প্রশ্ন, যে কাশ্মীরকে ঘিরে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের একাধিক যুদ্ধ ও সংঘাত হয়েছে, সেই কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান কেন কলকাতায় লেখা হবে? মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর এক্সেলেন্স। যে কাশ্মীরের জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের এত যুদ্ধ, এত লড়াই, কলকাতার রাস্তায় সেই ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজ়াদি’ লিখবেন? এটা পীড়াদায়ক। যাদবপুরে কলাবিভাগের দেওয়ালে লিখবেন, ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’! নতুন প্রজন্মকে কী শেখাচ্ছেন?’’
নিহত মাওবাদী নেতা কিষেণজির প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কিষেণজি ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন এবং সংবিধান নিয়ে আপত্তিকর অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই সূত্রেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে এমন স্লোগান লেখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
শুধু যাদবপুর নয়, ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ণাঙ্গ ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে আপত্তির কারণ কী, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘‘বন্দে মাতরম্ তো কোনও রাজনৈতিক নেতা লেখেননি। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লিখে গিয়েছেন। তাতে কিসের আপত্তি?’’
এর পরেই দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ এবং জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিরোধিতার বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, দেশের বাইরে থাকা শত্রুদের মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের ভিতরে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদকে আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে হবে।
নতুন প্রজন্মের দায়িত্বের কথাও এ দিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি দেশের শক্তি বৃদ্ধিতে তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। ইজ়রায়েলের উদাহরণ দিয়ে কলেজ ও স্কুলে এনসিসি প্রশিক্ষণ চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর বক্তব্য, ভবিষ্যতে প্রত্যেক স্কুল ও কলেজে এনসিসি বাধ্যতামূলক করা উচিত। রাজ্যে এনসিসি বন্ধ করে জয়হিন্দ বাহিনী চালুর সিদ্ধান্তও ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, এনসিসির কোনও বিকল্প হয় না।
এ দিন সকালে নিজের বাড়ি থেকেই রাখিবন্ধন উৎসবের সূচনা করেন শুভেন্দু। তাঁকে রাখি পরান বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি নিউটাউন ঐশ্বর্যা সাগর, আইসি বাগুইআটি সঞ্জয় ঘোষ-সহ মহিলা পুলিশকর্মীরা। পরে চিংড়িঘাটা মোড়েও মহিলারা তাঁকে রাখি পরান।
বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এইট-বি মোড়ে ‘১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। ফলে রাখিবন্ধনের দিন শুভেন্দুর যাদবপুর-সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।