প্রথম পাতা খবর ২২ জানুয়ারি থেকে ৫০তম কলকাতা বইমেলা, স্টল বণ্টনে অটোমেশন! থিম কান্ট্রি হতে পারে ইজরায়েল

২২ জানুয়ারি থেকে ৫০তম কলকাতা বইমেলা, স্টল বণ্টনে অটোমেশন! থিম কান্ট্রি হতে পারে ইজরায়েল

7 views
A+A-
Reset

ঘোষিত হল ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার দিনক্ষণ। আগামী বছর ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে কলকাতা বইমেলা। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাঙালির প্রাণের এই বই উৎসব এবার পা দিতে চলেছে তার ৫০তম বছরে। ফলে আগামী বছরের মেলা কলকাতা বইমেলার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে চলেছে।

গত মাসেই আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিল রাজ্য সরকার। ২৪ সদস্যের ওই কমিটিতে রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। সেই সময়ই জানা গিয়েছিল, কলকাতা বইমেলার যৌথ আয়োজক হিসেবে থাকছে পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড, ইজেডসিসি এবং ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হল।

স্টল বণ্টনে এবার অটোমেশন

এবারের কলকাতা বইমেলায় স্টল বণ্টনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। অতীতে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে জাতীয়তাবাদী ও হিন্দুত্ববাদী বইয়ের প্রকাশকরা বইমেলায় জায়গা পেতেন না বলে অভিযোগ উঠেছিল।

এই পরিস্থিতিতে এবার আধুনিক পদ্ধতিতে স্টল বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন বড় বইমেলার মতো কলকাতা বইমেলাতেও অটোমেশন পদ্ধতিতে স্টল বরাদ্দ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকাশকরা অনলাইনে বা নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় তাঁদের স্টলের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

থিম কান্ট্রি হতে পারে ইজরায়েল

৫০তম কলকাতা বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে ইজরায়েলকে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এর জন্য সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন। সেই অনুমোদন পাওয়া গেলে ইজরায়েল হতে পারে এবারের থিম কান্ট্রি।

অনুমোদন না মিললে ‘বন্দে মাতরম্’-এর সার্ধশতবর্ষকে কেন্দ্র করেই বইমেলার মূল থিম নির্ধারণ করা হতে পারে। অর্থাৎ থিম কান্ট্রি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।

বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নিয়ে ধোঁয়াশা

এবারের বইমেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন থাকবে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। গত দু’বছরের মতো এবারও বাংলাদেশি কোনও বুক স্টল থাকার সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই জানা যাচ্ছে।

এই বিষয়ে কমিটির বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তবে কমিটি এবং প্রকাশকদের একাংশের আপত্তি রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুমোদন পাওয়ার পরই বাংলাদেশি প্রকাশকদের অংশগ্রহণ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

‘সকলের বিচরণক্ষেত্র হোক বইমেলা’

কলকাতা বইমেলাকে কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এনে সকল প্রকাশক, মুদ্রাকর ও বই বিক্রেতার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি আগেই উঠেছিল। রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কলকাতা বইমেলায় ‘ভারতীয়ত্বের ছাপ’ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন।

বুদ্ধদেব গুহর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বইমেলাকে সকলের বিচরণক্ষেত্র করে তোলার দাবি জানান।

সব মিলিয়ে ৫০তম কলকাতা বইমেলাকে ঘিরে এ বার একাধিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেও থিম কান্ট্রি, বাংলাদেশি প্রকাশকদের অংশগ্রহণ এবং স্টল বণ্টনের নতুন পদ্ধতি—এই তিন বিষয়েই এখন নজর বইপ্রেমী ও প্রকাশনা জগতের।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.