তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া ২০ সাংসদের সদস্যপদ নিয়ে আইনি জটিলতার মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে। এনসিপিআইয়ের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা জাতীয় সংগঠন সম্পাদক শান্তনু দে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই নতুন কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
তবে নতুন কমিটির প্রকাশিত তালিকায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেই। কমিটির সভাপতি হিসেবে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ এনসিপিআইয়ের একাধিক সাংসদকে বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শান্তনু দে-র দাবি, দল গঠনের সময় যাঁরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “একটা কমিটি তৈরি করতে গেলে যারা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য রয়েছে, যারা দায়িত্বে ছিল, তাদের সঙ্গে একটা আলোচনার দরকার ছিল। সেটা তো হয়নি।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, বিষয়টি জানিয়ে তিনি নিজে লোকসভার স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন। ত্রিপুরায় দলের দায়িত্বে থাকা কয়েকজনও একই বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে তাঁর দাবি। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সমর্থন ও আলোচনা ছাড়া নেওয়া সিদ্ধান্তটি স্পিকারের বিবেচনা করা উচিত।
‘জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়কে কোনও দিন দেখিনি’
নতুন কমিটিতে জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়কে সভাপতি করার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শান্তনু। তাঁর দাবি, “জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়কে সভাপতি বলছে। কিন্তু, আমরা কোনও দিন তাঁর মুখ দেখিনি। আমাদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় নেই।”
তাঁর আরও অভিযোগ, এনসিপিআইয়ের পেজেও জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের পরিচয় বা ছবি সম্পর্কে তাঁরা স্পষ্ট তথ্য পাননি। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে তাঁরা অন্ধকারে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
এর আগে জুন মাসেও এনসিপিআইয়ের নেতৃত্ব ও তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের দলে যোগ দেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন শান্তনু দে।
‘২০২২ সালে দল তৈরি করেছিলাম’
শান্তনু দে-র দাবি, ২০২২ সালে এনসিপিআই গঠনের সময় তিনি জাতীয় সম্পাদক (সংগঠন) পদে ছিলেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের বিরুদ্ধে দল দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগ শান্তনু দে-র নিজস্ব বক্তব্য; নতুন কমিটির পক্ষে বা সংশ্লিষ্ট সাংসদদের তরফে এই অভিযোগের বিষয়ে পাল্টা বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সূত্রগুলিতে পাওয়া যায়নি।
‘শুধু সাংসদ যোগ দিলেই হবে না’
তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত হয়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া সাংসদদের নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শান্তনু। তাঁর বক্তব্য, “যাঁরা এনসিপিআইয়ে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা এক বার এই দলের টিকিটে জিতে আসুন। তাঁরা তৃণমূলের টিকিটে জিতেছেন। এখানে এসে দলে যোগ দিলে, সেই দলের দুই-তৃতীয়াংশ লোক কোথায়? শুধু এমপিরা যোগ দিলে হবে না।”
তবে সাংসদদের এনসিপিআইয়ে থাকা নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। শান্তনুর কথায়, “আমরা চাইছি সাংসদরা আসুক। কিন্তু, স্বচ্ছতা রেখে আসুক।”
এই বিতর্কের মধ্যেই এনসিপিআইয়ের ২০ সাংসদের লোকসভায় অবস্থান নিয়েও আইনি প্রক্রিয়া চলছে। দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ২৫ অগস্ট সাংসদদের নোটিস দিয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, লোকসভার স্পিকারের নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য সাংসদরা অতিরিক্ত সময়ও চেয়েছিলেন।
এখন নতুন কমিটি নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের আপত্তির চিঠির পর এনসিপিআইয়ের সাংগঠনিক বৈধতা ও নেতৃত্বের প্রশ্নটি আরও সামনে এসেছে।