প্রথম পাতা খবর অভিষেকের বাড়ির সামনে একাধিকবার উত্তেজনা, পুলিশের বিরুদ্ধে সরব মমতা! কলকাতার পুলিশ কমিশনারের ইস্তফা দাবি

অভিষেকের বাড়ির সামনে একাধিকবার উত্তেজনা, পুলিশের বিরুদ্ধে সরব মমতা! কলকাতার পুলিশ কমিশনারের ইস্তফা দাবি

5 views
A+A-
Reset

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে শনিবার দুপুরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। শুক্রবার রাতের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকাল থেকে কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন অনুগামীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসা ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে বাড়ির ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের ইস্তফা দাবি করেন তিনি। তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন।

শুক্রবার রাতের ঘটনার পর অভিষেকের বাড়ির সামনে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল। তার মধ্যেই শনিবার সকাল থেকে ফুল-মালা নিয়ে অনুগামীরা পটুয়াপাড়ায় জড়ো হতে থাকেন। দুপুর ৩টে নাগাদ বাড়ির সামনে অস্থায়ী ছাউনির কাছে কেক কাটার কথা ছিল অভিষেকের। অভিযোগ, রাস্তায় এ ধরনের কর্মসূচি করা যাবে না বলে পুলিশ জানায়। এর পরেই কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়, যা পরে ধাক্কাধাক্কিতে গড়ায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মমতা ও অভিষেক দু’জনেই বাড়ির বাইরে আসেন।

একটি চেয়ারের উপর উঠে মাইক হাতে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন মমতা। তিনি জানান, কালীঘাটের পটুয়াপাড়ায় বহু মানুষ প্রতিমা কিনতে আসেন। তাই কোনওভাবেই স্থানীয় ব্যবসার ক্ষতি করা চলবে না। ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, তাঁরা যেন নিশ্চিন্তে ব্যবসা করেন। অভিষেকের সঙ্গে দেখা করতে আসা ব্যক্তিদের রাস্তার বাঁ দিক ধরে চলার পরামর্শ দেন তিনি। ডান দিকের রাস্তা গাড়ি চলাচলের জন্য খোলা রাখার কথাও জানান।

মমতার বক্তব্য, কেউ অভিষেককে শুভেচ্ছা জানাতে এলে তাঁদের স্বাগত জানানো হবে। তবে কিছু মানুষকে ‘প্রলোভন’ দেখিয়ে সেখানে পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাম না করে বিজেপিকে নিশানা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

এর পরেই পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। কালীঘাট থানার ওসি বলাই বাগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, থানার কাজকর্ম ও এলাকার নিরাপত্তার দিকে নজর রাখতে হবে। কালীঘাট মন্দিরে প্রতিদিন বহু মানুষ আসেন, তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি। পুলিশকে সতর্ক করে মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির হাতে পুতুল হয়ে চেয়ার হারাতে পারেন!’’ তাঁদের কাজে বাধা দেওয়া হলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও বলেন।

কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকেও নিশানা করেন মমতা। প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নৈতিক দায়িত্বের কথা ভেবে বিনীতকে ইস্তফা দিতে হয়েছিল। এর পরেই অজয় নন্দের ইস্তফা দাবি করেন তিনি।

এ দিন মমতা আরও অভিযোগ করেন, তাঁর বাড়ির সামনে ‘বেআইনি ভাবে’ পুজো করা হচ্ছে। নিজেদের ‘সনাতনী’ বলে দাবি করা ব্যক্তিরাই পুজোর আগে হামলা চালাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, হিন্দু ধর্মকে আঘাত করা উচিত নয়। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের নিশানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর কথায়, দলের কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং ধর্ষণ, খুন ও পকসো মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত থেকেই কালীঘাটে দফায় দফায় সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের সঙ্গে স্থানীয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বচসা, ধস্তাধস্তি ও ইট ছোড়াছুড়ির জেরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। অভিষেকের অভিযোগ, তাঁদের কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, সংঘর্ষে দু’পক্ষেরই কয়েক জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে দু’পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতেই নিজের বাড়ির সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন অভিষেক। পুলিশের সঙ্গে তর্কেও জড়ান তিনি। অভিষেকের অভিযোগ, পেরেক বসানো লাঠি নিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, তাঁর চার-পাঁচ জন অনুগামী গুরুতর আহত হয়েছেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ পুলিশের হস্তক্ষেপে বাড়িতে ঢোকেন অভিষেক। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে দু’দিন আগেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন এবং সেখানে লোকসভার স্পিকারকেও ট্যাগ করেছিলেন।

শনিবার দুপুরের নতুন করে উত্তেজনার পর কালীঘাটে পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতর আরও বাড়ল। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মমতার অভিযোগ এবং পুলিশ কমিশনারের ইস্তফার দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.