ক্যামাক স্ট্রিটের তৃণমূলের কার্যালয় নিয়ে মামলায় আপাতত স্বস্তি পেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। কলকাতা হাই কোর্ট জানিয়েছে, নিম্ন আদালতে দু’পক্ষের বক্তব্য যথাযথ ভাবে শুনে আইনি বিষয়গুলি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তার আগে ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় থেকে অভিষেকদের উচ্ছেদ করা যাবে না।
ক্যামাক স্ট্রিটের ওই কার্যালয় নিয়ে বাড়ির মালিকপক্ষের সঙ্গে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ২০২০ সালে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সঙ্গে বাড়ির মালিকপক্ষের ১০ বছরের একটি চুক্তি হয়েছিল বলে মালিকপক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন। চুক্তিতে তৎকালীন তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী সই করেছিলেন বলে জানা যায়। মালিকপক্ষের অভিযোগ, চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত মেনে জায়গা ব্যবহার করা হয়নি এবং অতিরিক্ত অংশ দখল করে ব্যবহারের পাশাপাশি অনুমতি ছাড়াই হোর্ডিংও লাগানো হয়েছিল।
ভাড়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। মালিকপক্ষের তরফে অভিযোগ করা হয়, চুক্তির শর্ত পূরণ না করেই কার্যালয়ের দুই তলা ব্যবহার করা হয়েছে। গত ২৫ অগস্ট ওই জায়গা খালি করার জন্য নোটিস দেওয়া হয়।
এর পর বিষয়টি নিম্ন আদালতে গড়ায়। কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টে মামলার শুনানির মধ্যেই উচ্ছেদ সংক্রান্ত নির্দেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূলের পক্ষ। এদিকে, কার্যালয়টি নিয়ে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত পৃথক একটি বিতর্কও তৈরি হয়েছিল। সেই মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট ইতিমধ্যেই দমকলের খালি করার নোটিস খারিজ করেছে।
দু’পক্ষের বক্তব্য শুনেই সিদ্ধান্ত
বুধবার ক্যামাক স্ট্রিটের মূল দখল ও লিজ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাই কোর্ট নিম্ন আদালতকে দু’পক্ষের বক্তব্য যথাযথ ভাবে শোনার নির্দেশ দিয়েছে। আইনি বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
অর্থাৎ, নিম্ন আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত বাড়ির মালিকপক্ষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের দখল নিয়ে কোনও উচ্ছেদমূলক পদক্ষেপ করতে পারবে না।
মালিকপক্ষের অভিযোগ, ২০২০ সালের চুক্তির শর্ত ভঙ্গ হয়েছে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের আগেই জায়গা ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের বক্তব্য, কার্যালয় ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে এবং লিজ সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে নিম্ন আদালতে মামলা বিচারাধীন।
এর ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় নিয়ে বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আপাতত নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করছে।