দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানোর বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। বুধবার অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সময়ের বকেয়া ডিএ এক কিস্তিতেই দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি নম্বর ৩৫৫৬-F(P2), তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
অর্থ দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ সর্বভারতীয় উপভোক্তা মূল্যসূচক (AICPI)-এর ১০০ শতাংশ হারে হিসাব করা হবে। তবে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ বাবদ ইতিমধ্যে যে অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে চূড়ান্ত বকেয়া নির্ধারণ করা হবে।
কারা কী ভাবে টাকা পাবেন?
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে কর্মীদের শ্রেণি অনুযায়ী বকেয়া অর্থ দেওয়ার পদ্ধতিও স্পষ্ট করা হয়েছে।
গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ কর্মীরা: তাঁদের বকেয়া ডিএ জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীরা: তাঁদের বকেয়া অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
অবসরের কাছাকাছি কর্মীরা: যাঁদের অবসরের তিন মাস বা তার কম সময় বাকি, তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়া অর্থ জিপিএফে জমা না করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে।
২০২৮ সালের আগে জিপিএফের টাকা তোলা যাবে না
গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ কর্মীদের জিপিএফ অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ জমা হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে তোলা যাবে না। ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত ওই অর্থের ভিত্তিতে অগ্রিম বা চূড়ান্ত উত্তোলনের সুযোগ থাকবে না। তবে তার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীর অবসর, পদত্যাগ বা মৃত্যু হলে নিয়ম অনুযায়ী এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
বকেয়া ডিএ-র হিসাব নির্ধারণ ও বিল প্রক্রিয়ার জন্য এইচআরএমএস ব্যবস্থাতেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। প্রযোজ্য আয়করও অর্থ প্রদানের সময় সমন্বয় করা হবে।
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের পরও গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বোর্ড, কর্পোরেশন ও অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে। মার্চে প্রকাশিত অর্থ দফতরের নির্দেশিকায় এই কর্মীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছিল।
বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন অবশ্য নতুন নির্দেশিকাকে নিজেদের অবস্থান থেকে ব্যাখ্যা করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী পরিষদের সভাপতি দেবাশিস শীল দাবি করেছেন, ২০০৮-১৫ সালের বকেয়া নিয়ে এতদিন কোনও স্পষ্টতা ছিল না। অন্যদিকে কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী এবং বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য তাঁদের নিজস্ব সংগঠনের অবস্থান হিসেবে বিবেচ্য।
এর আগে মার্চে রাজ্য সরকার ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ/ডিআর দুই কিস্তিতে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। সেই নির্দেশিকাতেই ২০০৮-১৫ সালের বকেয়া নিয়ে পরবর্তী সময়ে পৃথক পদ্ধতি ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছিল।