সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নাবিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরের আগে রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল। মহিলা মোর্চা ও যুব মোর্চার শীর্ষ পদে বদল আনার পাশাপাশি সাতটি সাংগঠনিক জেলায় নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে মন্ত্রী হওয়া একাধিক নেতাকে রাজ্য সংগঠনের পদ থেকে সরানো হয়েছে।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ধাপে ধাপে নতুন রাজ্য কমিটি, কার্যকারিণী, মিডিয়া, সমাজমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব ঘোষণা করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদে অমিতাভ চক্রবর্তীর পুনর্নিয়োগের পর শুক্রবার গুরুত্বপূর্ণ শাখা সংগঠন ও জেলা সংগঠনে রদবদল করা হল। অমিতাভ চক্রবর্তীকে পশ্চিমবঙ্গের সংগঠন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পুনর্নিয়োগের বিষয়টিও বিজেপির সাম্প্রতিক সাংগঠনিক ঘোষণায় নিশ্চিত হয়েছে।
মহিলা মোর্চায় অঞ্জনা বসু
বিজেপির মহিলা মোর্চার নতুন রাজ্য সভানেত্রী হলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। তিনি ফাল্গুনী পাত্রের জায়গায় দায়িত্ব পেলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন অঞ্জনা। পরে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে জল্পনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে দলের সাংগঠনিক পরিসরে তাঁর সক্রিয়তা বেড়েছিল।
মহিলা মোর্চার নেতৃত্বে অঞ্জনার নিয়োগ বিজেপির জন্য নতুন নয়। এর আগে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পালের মতো পরিচিত মুখ এই দায়িত্বে ছিলেন। এবার ফের একজন অভিনেত্রীকে মহিলা মোর্চার শীর্ষ পদে আনা হল।
যুব মোর্চার সভাপতি অমিত সামন্ত
যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকেও বদল করা হয়েছে। বিধায়ক এবং মন্ত্রী হওয়ার পরে ইন্দ্রনীল খাঁ-কে ওই পদ থেকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে বিধায়ক অমিত সামন্তকে।
এর আগে ইন্দ্রনীলের কমিটিতে অমিত সামন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমতা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হন তিনি। এবার যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেলেন অমিত।
মন্ত্রীদের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি
‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে মন্ত্রী হয়ে যাওয়া একাধিক নেতাকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। রাজ্য সহ-সভাপতি পদে থাকা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও অগ্নিমিত্রা পাল, এবং রাজ্য সম্পাদক পদে থাকা দীপক বর্মন ও শঙ্কর ঘোষ মন্ত্রী হওয়ার পর সাংগঠনিক পদ ছেড়েছেন।
এছাড়াও রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয়েছে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে। তিনি মন্ত্রী নন। ফলে তাঁর অপসারণ নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র যাদবপুরে সাংগঠনিক কার্যকলাপ নিয়ে দলের একাংশের আপত্তি ছিল বলেও সূত্রের দাবি। তবে তাঁর অপসারণের কারণ নিয়ে বিজেপির তরফে প্রকাশ্য কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
সাত সাংগঠনিক জেলায় নতুন সভাপতি
শুক্রবার সাতটি সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি বদল করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা—
- বনগাঁ: নৃপেন বিশ্বাস
- বারাসত: দীপঙ্কর চক্রবর্তী
- শ্রীরামপুর: শশী সিংহ
- আরামবাগ: প্রশান্ত দিগার
- মেদিনীপুর: সৌমেন তিওয়ারি
- বর্ধমান: আশিস পাল
- কাটোয়া: মানিক রায়
এর আগে অগস্টেই রাজ্য বিজেপিতে সাংগঠনিক রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল এবং একাধিক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বদলের কথা সামনে এসেছিল।
‘টিম বনসল’-এর একাধিক নেতার দায়িত্ব বৃদ্ধি
নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা একাধিক নেতার দায়িত্বও বেড়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। প্রবাল রাহা আগেই রাজ্য সহ-সভাপতি হয়েছেন। শশী অগ্নিহোত্রী রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে। নতুন রদবদলে রামপদ দাসকে সহ-সভাপতি এবং নীলাঞ্জন অধিকারী ও শঙ্কর চক্রবর্তীকে রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছে।
এদিকে ফাল্গুনী পাত্রকে রাজ্য দলের সহ-সভাপতি করা হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ অনল বিশ্বাস এবং অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সঞ্জয় বর্মাকেও রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, উপনির্বাচন ও আসন্ন পুরভোটের আগে রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামোয় এই রদবদলকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে কোনও মূল্যায়ন না করে বলা যায়, সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে নতুন দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দলটি তার কাঠামো পুনর্বিন্যাস করেছে।