নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য নিয়ে জল্পনার মধ্যেই শনিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু ও বিবেক জোশি বৈঠকে বসলেন। বৈঠকের পর তিন কমিশনারের একসঙ্গে ছবি প্রকাশ করে কমিশন জানাল, দেশজুড়ে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল।
বিতর্কের সূত্রপাত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে এসআইআর, ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়া এবং ভোটার তালিকার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে তাঁদের একাধিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিজেদের অজ্ঞাত রাখার অভিযোগ এবং ভোটার সংক্রান্ত ডেটাবেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়।
এর পরেই নির্বাচন কমিশনের তরফে বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। শনিবারের পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের পর কমিশন জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ জুন দেশজুড়ে এসআইআর সংক্রান্ত যে নির্দেশ জারি হয়েছিল, তা তিন কমিশনারেরই অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছিল। বিহার থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ক্ষেত্রে ওই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য ছিল বলে কমিশনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
কমিশন আরও জানিয়েছে, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, সেটি কোনও নীতি বা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার বিষয়ে ছিল না। নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজের বণ্টন সংক্রান্ত প্রশাসনিক বিষয় নিয়েই ওই চিঠি ছিল বলে জানানো হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশের পরও কাজের বণ্টনের পরিবর্তন কার্যকর হয়নি এবং আইটি ডিভিশনের উপর ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের তদারকিও প্রত্যাহার করা হয়নি।
অন্য দিকে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভোটার অন্তর্ভুক্তি ও বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া, Form-6-এ পরিবর্তন, ভোটার ডেটাবেসের কেন্দ্রীকরণ এবং আইটি ব্যবস্থার উপর নজরদারি নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁদের আপত্তিতে ‘অননুমোদিত’ ও ‘অবৈধ’ পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে শনিবার তিন কমিশনারের বৈঠক এবং তার পরেই তাঁদের একসঙ্গে ছবি প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তিন সদস্যের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য ছিল না। একই সঙ্গে কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলির বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলি নিয়ে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে।
তবে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে উঠে আসা দুই কমিশনারের লিখিত আপত্তির বিষয়টি এবং কমিশনের দেওয়া ব্যাখ্যা—দুই দিকই এখন প্রকাশ্যে রয়েছে। ফলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।