আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় শেষকৃত্য ঘিরে ওঠা অভিযোগের তদন্তে রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের নজরদারিতে মূল মামলার তদন্ত সিবিআই করছে, তার পরেও খড়দহ থানায় পৃথক এফআইআর করে তদন্ত শুরু হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ।
চলতি বছরের অগস্টে খড়দহ থানায় ওই পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, নির্যাতিতার দেহ তড়িঘড়ি সৎকার করা হয় এবং ঘটনায় প্রমাণ নষ্টের মতো বিষয় থাকতে পারে। এই মামলায় পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, প্রাক্তন কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসে।
মে মাসেই কলকাতা হাই কোর্ট আরজি কর-কাণ্ডের রাত থেকে পরের দিন শেষকৃত্য পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহ খতিয়ে দেখতে সিবিআইয়ের তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই তদন্তও আদালতের নজরদারিতে চলছে।
এই পরিস্থিতিতে একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে খড়দহ থানার পুলিশ কী ভাবে আলাদা করে তদন্ত শুরু করল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। ২৪ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে আইসি এবং তদন্তকারী আধিকারিককে ১ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের কারণ ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেস ডায়েরিও তলব করা হয়।
আদালতের প্রশ্ন, যখন সিবিআই ইতিমধ্যেই পুরো ঘটনাপ্রবাহ, শেষকৃত্য এবং প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে, তখন পুলিশের পৃথক তদন্তের প্রয়োজন কেন হল। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপের বিষয়টিও আদালত বিবেচনা করতে পারে বলে শুনানিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।