প্রথম পাতা খবর ভিনরাজ্যে রক্ত পাচারের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ, ১১ ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তদান শিবির থেকে সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা

ভিনরাজ্যে রক্ত পাচারের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ, ১১ ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তদান শিবির থেকে সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা

8 views
A+A-
Reset

কলকাতা: ভিনরাজ্যে রক্ত পাচারের অভিযোগের তদন্তে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্ককে রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্বাস্থ্য ভবন। তালিকায় রয়েছে কলকাতার একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের ব্লাড সেন্টারও।

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি আপাতত কোনও রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে পারবে না। তবে কোনও ব্যক্তি সরাসরি ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে রক্তদান করলে তা গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি, রাজ্যের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ রক্ত পাঠাতে হলে স্বাস্থ্য দফতরের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যে ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা

  • ইস্পাত কো-অপারেটিভ হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার, সোনারপুর
  • লাইফ কেয়ার ব্লাড সেন্টার, এন্টালি
  • অশোক ল্যাবরেটরি ব্লাড সেন্টার, যোধপুর পার্ক
  • কোঠারি মেডিক্যাল ব্লাড সেন্টার, আলিপুর
  • হেলথ পয়েন্ট হাসপাতাল ব্লাড সেন্টার, পদ্মপুকুর
  • ওম ব্লাড সেন্টার, বেলেঘাটা
  • HMC রোটারি ব্লাড সেন্টার, হাওড়া
  • ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস ব্লাড সেন্টার, কৃষ্ণনগর
  • উপশম ওম ব্লাড সেন্টার, রায়গঞ্জ
  • টেরিজা ওম ব্লাড সেন্টার, পূর্ব বর্ধমান
  • রানিগঞ্জ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস ব্লাড সেন্টার

কোঠারি ব্লাড সেন্টারকে ঘিরে তদন্ত

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, স্বাস্থ্য ভবনকে না জানিয়ে ভিনরাজ্যে রক্ত ও প্লাজমা বিক্রির অভিযোগ উঠেছে আলিপুরের কোঠারি মেডিক্যাল ব্লাড সেন্টারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার সেখানে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ দল। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে রক্ত সংগ্রহ ও বিক্রির বিভিন্ন নথি।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে বিভিন্ন রক্তদান শিবির থেকে ৪২,৩৬৭ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেছে কোঠারি, যা তাদের নিজস্ব হাসপাতালের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

অভিযোগ, এই সময়ের মধ্যে চারটি ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার কাছে ৩৫,১২৫ ইউনিট প্লাজমা বিক্রি করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য সাড়ে ৩ কোটি টাকারও বেশি। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সমস্ত রিকুইজিশন কপি ও নথি তলব করেছে স্বাস্থ্য ভবন। সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য দফতরের সন্দেহ, অতিরিক্ত প্লাজমা সংগ্রহ ও বিক্রির উদ্দেশ্যেই রক্তদান শিবির থেকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে কোঠারি মেডিক্যাল ব্লাড সেন্টারের দাবি, প্লাজমা বিক্রি করা হলেও রাজ্যের বাইরে লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells) বিক্রি করা হয়নি।

স্বাস্থ্য ভবন স্পষ্ট জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোঠারি-সহ সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির ওপর রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

এ বিষয়ে কোঠারি কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.