মায়ামি: স্কোরবোর্ড বলবে, আর্জেন্টিনা জিতেছে। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের মনে হয়তো অনেক দিন থেকে যাবে কাবো ভার্দের নাম। সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে যে লড়াই উপহার দিল, তা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ পর্যন্ত লিওনেল মেসিদের কাছে ৩-২ গোলে হারলেও মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপকে বিদায় জানাল কাবো ভার্দে।
মায়ামিতে কার্যত ঘরের মাঠে খেলা আর্জেন্টিনা ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রাখে। তবে কাবো ভার্দের শক্ত রক্ষণ ভাঙতে বেগ পেতে হয় লিওনেল স্কালোনির দলকে। অবশেষে ম্যাচের ৩০ মিনিটের মধ্যে জাদু দেখান লিওনেল মেসি। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের মাপা ক্রস বক্সে পেয়ে অসাধারণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁ-পায়ের শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির সপ্তম গোল এবং বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা পৌঁছয় ২০-এ।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার দাপট থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য এক কাবো ভার্দেকে দেখা যায়। আক্রমণে উঠে এসে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রক্ষণকে চাপে ফেলতে শুরু করে তারা। তারই ফল মেলে ৬০ মিনিটে। ডুয়ার্তের শক্তিশালী শট লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ের ফাঁক গলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। সমতায় ফেরে কাবো ভার্দে।
এর পর ম্যাচ আরও জমে ওঠে। ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক ভোজিনহা একের পর এক দুরন্ত সেভ করে মেসিদের হতাশ করতে থাকেন। মেসির ফ্রিকিক হোক বা সামনাসামনি সুযোগ—সব ক্ষেত্রেই দৃঢ়তার পরিচয় দেন তিনি।
নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে ফের এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৯১ মিনিটে কর্নার থেকে পাওয়া বলে গোল করে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। কিন্তু কাবো ভার্দে হার মানার পাত্র ছিল না। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেজ কাব্রালের দুরন্ত কার্লিং শট বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলের দাবিদার হয়ে ওঠে। সেই গোলেই আবারও সমতায় ফেরে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় ১১১ মিনিটে। মেসির কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড ক্লিয়ার করতে গিয়ে দুর্ভাগ্যবশত নিজের জালেই বল জড়িয়ে দেন ডিনে। সেই আত্মঘাতী গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় কাবো ভার্দে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কয়েকটি দুরন্ত সেভ না থাকলে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে ঠিকই, কিন্তু এই ম্যাচের প্রকৃত নায়ক হয়ে থাকল কাবো ভার্দে। পরাজিত হয়েও তারা বুঝিয়ে দিল, ফুটবলে শুধু জয় নয়, লড়াইও ইতিহাস হয়ে থাকে।