প্রথম পাতা খবর তৃণমূল ছেড়ে ‘অজ্ঞাতনামা’ এনসিপিআই-তে যোগের পথে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা! স্পিকারকে চিঠি কাকলিদের

তৃণমূল ছেড়ে ‘অজ্ঞাতনামা’ এনসিপিআই-তে যোগের পথে ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা! স্পিকারকে চিঠি কাকলিদের

7 views
A+A-
Reset

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ভাঙন এবার নতুন মোড় নিতে চলেছে। সূত্রের খবর, দল থেকে দূরত্ব তৈরি করা ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের একাংশ এবার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার পথে হাঁটছেন। ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে সেই মর্মে চিঠি পাঠিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ একাধিক সাংসদ।

রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপ কি তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কের শেষ অধ্যায়ের সূচনা?

জানা গিয়েছে, এনসিপিআই কোনও নতুন দল নয়। ২০২২ সালের ১৩ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে ইংরেজি দৈনিক মিলেনিয়াম পোস্ট এবং হিন্দি সংবাদপত্র সমিজ্ঞা-য় দলের আত্মপ্রকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে দলের সদর দফতরের ঠিকানা হিসেবে হাওড়ার বাঁকড়ার একটি কার্যালয়ের উল্লেখ ছিল। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আপত্তি থাকলে ৩০ দিনের মধ্যে তা জানাতে বলা হয়েছিল।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, এনসিপিআই মূলত অসম এবং ত্রিপুরার জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সংগঠন গড়ে তুলেছিল। তবে জাতীয় বা আঞ্চলিক রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি দলটি। ২০২৩ সালে একবার বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিলেও কোনও আসনে জয় পায়নি।

সূত্রের খবর, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব দেব-এর সঙ্গে আলোচনা করার পরই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা এই দলকে রাজনৈতিক আশ্রয় হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

উল্লেখ্য, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলে শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ সংকট। বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে ‘আসল তৃণমূল’ নামে পৃথক ফ্রন্ট। অন্যদিকে লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদার-সহ প্রায় ২০ জন সাংসদ এনডিএ-তে পৃথক ব্লকের স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

তবে সাংবিধানিক ও সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল। দলের কোনও অংশ আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে স্বীকৃতি দাবি করতে পারে না। এই বিষয়টি উল্লেখ করে রবিবার লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠান তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং কীর্তি আজাদ। সেই চিঠির নেপথ্যে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা।

চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, দল ভেঙে পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী গঠন করার সুযোগ আইনত নেই। এরপরই নতুন কৌশল নেয় বিদ্রোহী শিবির। পৃথক গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চাওয়ার বদলে তাঁরা এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার আবেদন জানান বলে সূত্রের দাবি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ সফল হলে লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা আরও কমে যেতে পারে এবং রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। এখন নজর লোকসভার স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.