প্রথম পাতা খবর দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির দাপট, উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা; দু’-তিন দিনের মধ্যেই পুরুলিয়াতেও বর্ষা

দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির দাপট, উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা; দু’-তিন দিনের মধ্যেই পুরুলিয়াতেও বর্ষা

4 views
A+A-
Reset

দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। একইসঙ্গে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ অংশে ইতিমধ্যেই বর্ষা প্রবেশ করেছে। শুধু পুরুলিয়া বাদ রয়েছে, তবে আগামী দু’ থেকে তিন দিনের মধ্যেই সেখানেও বর্ষা ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামেও ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সোমবার বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। হুগলিতে বুধবারও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নদিয়ায় রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে রবিবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। শনিবার বিকেলে পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই বৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

উত্তরবঙ্গে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

উত্তরবঙ্গে বর্ষা আগেই প্রবেশ করেছে। আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রবল বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের পাহাড় সংলগ্ন পাঁচ জেলায় আগামী শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহেও আগামী সাত দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

কেন বাড়ছে বৃষ্টির সম্ভাবনা?

আবহাওয়া দফতরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পাকিস্তান থেকে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এছাড়া আগামী দু’ থেকে তিন দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশার কিছু অংশেও বর্ষা প্রবেশ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সাধারণত দক্ষিণবঙ্গে ১০ জুন বর্ষা প্রবেশ করে। তবে এ বছর তা কিছুটা দেরিতে, ১২ থেকে ১৩ জুনের মধ্যে প্রবেশ করেছে।

তাপমাত্রায় বড় পরিবর্তন নয়

ঝড়বৃষ্টির কারণে আপাতত উত্তর বা দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আগামী সাত দিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ০.৮ ডিগ্রি বেশি।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.