কলকাতার ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে নয়া পদক্ষেপ করল লালবাজার। বৃহস্পতিবার জারি করা নির্দেশিকায় এবার থেকে শহরের ব্যাঙ্কগুলিতে নিয়মিত টহল দেওয়ার দায়িত্ব স্থানীয় থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এতদিন এই দায়িত্ব মূলত লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের ডাকাতদমন শাখার হাতে ছিল।
নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্থানীয় থানার পুলিশকর্মীরা নিয়মিত ব্যাঙ্ক পরিদর্শন করবেন এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পর্যালোচনা করবেন। ব্যাঙ্কে নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন রয়েছে কি না, সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, অ্যালার্ম ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা পরিকাঠামো কার্যকর রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হবে।
শুধু ব্যাঙ্ক খোলা থাকার সময়ই নয়, খোলার এবং বন্ধ করার সময়ও পুলিশি টহল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ব্যাঙ্কের আধিকারিক ও নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
ব্যাঙ্কের আশপাশের এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হবে। কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা যানবাহনের গতিবিধি নজরে এলে তা খতিয়ে দেখবেন টহলরত পুলিশকর্মীরা। সম্ভাব্য চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোনও অপরাধের বিষয়ে আগাম তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জানানোর নির্দেশ রয়েছে।
তবে ডাকাতদমন শাখার দায়িত্ব পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। নয়া ব্যবস্থায় এই শাখা ডাকাতি সংক্রান্ত গোপন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, অপরাধীদের শনাক্তকরণ এবং অপরাধচক্র সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় থানাগুলিকেও সাহায্য করবে তারা।
গোয়েন্দা বিভাগ এবং স্থানীয় থানার মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদানের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সক্রিয় দাগি অপরাধী, অপরাধচক্র এবং অপরাধের ধরন সম্পর্কে তথ্য ভাগ করে নেওয়া হবে। এর ফলে কোনও নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থাকলে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
নয়া ব্যবস্থার তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এলাকার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার বা ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকদের দেওয়া হয়েছে। নিজেদের এলাকায় ব্যাঙ্কগুলিতে নিয়মিত টহল হচ্ছে কি না এবং নির্দেশিকার প্রতিটি বিষয় ঠিকমতো পালন করা হচ্ছে কি না, তা তাঁরা নজরে রাখবেন।
বিশেষ পরিস্থিতিতেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও উৎসব বা বড় অনুষ্ঠানের সময় কিংবা কোনও ব্যাঙ্কে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন হওয়ার কথা থাকলে আগে থেকেই অপরাধের আশঙ্কা বা কোনও চক্রান্তের খবর পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট থানা অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করবে। প্রয়োজন হলে গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
লালবাজারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশোধিত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে। কলকাতার ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘিরে অপরাধ রুখতে স্থানীয় থানা ও গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।