স্থলভাগে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে গভীর নিম্নচাপ। বৃহস্পতিবার সকালে সিস্টেমটি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশার উপর অবস্থান করছিল। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও দুর্বল হবে সিস্টেমটি।
তবে নিম্নচাপ দুর্বল হলেও তার প্রভাব এখনই কাটছে না। শুক্রবারও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি এবং ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। IMD-র ২৪ সেপ্টেম্বরের সতর্কতা অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে শুক্রবার ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার থেকে এই সতর্কতা আর থাকছে না।
কোথায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা?
শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। ফলে এই তিন জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে।
কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জেলার সর্বত্র একই মাত্রায় বৃষ্টি হবে না।
শনিবার থেকে কমবে ঝড়বৃষ্টির দাপট
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ওই দিন থেকে নতুন করে কোনও ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। পরবর্তী কয়েক দিন বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টি চলতে পারে।
অন্যদিকে, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে আরও দুর্বল হবে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেটি কোরাপুটের প্রায় ৯০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণপূর্ব এবং রায়গড়ার প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।
অর্থাৎ, নিম্নচাপ দুর্বল হলেও শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝড়ের প্রভাব থাকছে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা।