বিধানসভায় এবার তৃণমূল কংগ্রেসে আড়াআড়ি ভাঙনের সম্ভাবনা ক্রমশ বাস্তব রূপ নিচ্ছে। সোমবার দল থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কারের পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে। এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে একাধিক বিধায়কের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সেই সুর কাটিয়ে ভাঙন আরও জোরালো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর।
আজ, মঙ্গলবারই কি বিধানসভায় চিঠি জমা দেবেন ঋতব্রত-সন্দীপন? সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, তৃণমূলে অসন্তুষ্ট বিধায়কের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বহিষ্কৃত এই দুই বিধায়কের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন অনেক তৃণমূল বিধায়ক। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে প্রয়োজন মোট বিধায়ক সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন। বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮ হয়েছে (দুই জন বহিষ্কৃত)। এই ৭৮ জনের দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৫২ জন বিধায়কের সমর্থন দরকার নতুন জোট গড়তে। ঋতব্রত-সন্দীপনদের এখন প্রয়োজন আরও ৫০ জন বিধায়কের সমর্থন।
সূত্রের খবর, বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের কাছে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় সংখ্যার বিধায়ক পৌঁছে গিয়েছে। বিধায়ক হস্টেলে ঋতব্রত ও সন্দীপনের আড্ডায় নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন একাধিক তৃণমূল বিধায়ক। এঁদের অধিকাংশই মালদা ও মুর্শিদাবাদের বলে জানা যাচ্ছে। বৈঠকের মাঝেই চলছে একের পর এক ফোন ও মেসেজ—প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়কদের মধ্যে। ফলে নতুন এই প্রেসার ব্লক বিধানসভায় সংখ্যা প্রমাণ করতে পারবে বলে আশাবাদী। এখন প্রশ্ন, বাকি বিধায়কদের সমর্থিত চিঠি কি আজই জমা পড়বে? এই নিয়েই চরম জল্পনা। অন্যদিকে, নির্বাচনে ভরাডুবির পর মঙ্গলবারই পথে নামছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই জোরালো হয়েছে মহারাষ্ট্র মডেলের সম্ভাবনা। শিবসেনা ও এনসিপির মতোই তৃণমূলেও আড়াআড়ি ভাঙন দেখা দিতে পারে। এর জেরে কি দল ও দলের প্রতীক—দুটিই হাতছাড়া হবে মমতার? সময়ই বলবে। তবে রাজ্য জুড়ে এখন রাজনৈতিক টানাপড়েন চরম আকার নিয়েছে।