প্রথম পাতা খবর মমতার বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে এফআইআর! বাংলাদেশের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘উস্কানি’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়ানোর অভিযোগ

মমতার বিরুদ্ধে শিলিগুড়িতে এফআইআর! বাংলাদেশের হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘উস্কানি’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে জড়ানোর অভিযোগ

13 views
A+A-
Reset

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আবারও এফআইআর দায়েরের ঘটনা ঘটল। এই বার শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। গত ২ জুন কলকাতার রানি রাসমণি রোডের এক জনসভায় বাংলাদেশের ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। সেই বক্তৃতায় তিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককেও সরাসরি জড়িয়ে ফেলেন। ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এই মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে খুন হন বিতর্কিত ওসমান হাদি। হাদির হত্যাকারীরা গত জানুয়ারিতে মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এলে রাজ্যের এসটিএফ দুজনকে গ্রেফতার করে। এরপর ২ জুনের সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না নিয়েও ইঙ্গিত দেন, অন্য দেশে খুন হলেও কারা জড়িত তা তিনি জানেন এবং সেই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যাই কথা হোক, এখন বাংলাদেশের একটা হত্যাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে সংগঠিত হত্যা বলে চালাচ্ছেন। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্বদরবারে ভারতের মাথা নত করেছেন এবং বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত করেছেন।”

আইনজীবী আরও বলেন, “পদে আসার সময় তিনি শপথ নিয়েছিলেন দেশের গোপনীয়তা বজায় রাখবেন। কিন্তু পদ থেকে সরে যাওয়ার পরই মৌলবাদীদের উস্কে দিতে শুরু করেছেন।” তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছিলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে STF গ্রেফতার করেছিল… হোম মিনিস্টার নিজে বলছেন… আপনি বাংলার পুলিশকে বলে দিন এই কথা বাইরে যেন না বলে… কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, আমি সব জানি।”

এই বক্তৃতার পরই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর দায়ের হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আইনের একাধিক গুরুতর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। সেগুলি হল— – **১৫২ ধারা** (দেওয়ানি কার্যবিধি লঙ্ঘন)

– **১৫৩ ধারা** (দাঙ্গা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে উস্কানি, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো)

– **১৫৩এ ধারা** (ধর্ম, জাতি, ভাষা বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়ানো)

– **১৯১ ও ১৯২ ধারা** (দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা)

– **১৯৬ ধারা** (ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা অঞ্চলের ভিত্তিতে জনসম্প্রীতি বিনষ্ট করা)

– **৩৫১ ধারা** (ভয় দেখিয়ে কাজ করানোর চেষ্টা)

– **৩৫২ ধারা** (ইচ্ছাকৃতভাবে শান্তি ভঙ্গ করা)

এদিকে বিশেষজ্ঞ মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ রাজা গোপাল ধর চক্রবর্তী বলেন, “মঞ্চ থেকে যে উক্তি করেছেন তা সাংঘাতিক। বাংলাদেশকে ভারতের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেওয়া এবং আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর আক্রমণ আরও বাড়বে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পদ থেকে সরে যাওয়ার পর কীভাবে তিনি এত সহজে দেশের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন— সেই প্রশ্ন এখন জোরালো হয়েছে। এই ঘটনা ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

শিলিগুড়ি থানায় পুলিশ এই মামলার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে কিনা, সেটা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক মহলে এই এফআইআরকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.