প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক তথা বিসিসিআইয়ের প্রাক্তন সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় বড়সড় পরিবর্তন আনল রাজ্য সরকার। এতদিন তিনি ‘জ়েড ক্যাটেগরি’ নিরাপত্তা পেতেন। তবে এবার সেই নিরাপত্তা কমিয়ে তাঁকে ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’ সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দু’ধাপ কমে গেল সৌরভের নিরাপত্তার বহর।
এই বিষয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত সৌরভ ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’ নিরাপত্তা পেতেন। সেই সময় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তিন জন সদস্য তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি, তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তার জন্যও পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরে তৎকালীন রাজ্য সরকার তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘জ়েড ক্যাটেগরি’ করে। সেই অনুযায়ী ৮ থেকে ১০ জন পুলিশকর্মী তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন এবং বাড়ির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে কাগজে-কলমে ‘জ়েড ক্যাটেগরি’ নিরাপত্তা বহাল থাকলেও বাস্তবে সৌরভের নিরাপত্তা বলয় আগের তুলনায় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর ‘জ়েড ক্যাটেগরি’ নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’ করা হল।
সাধারণত, ‘জ়েড ক্যাটেগরি’ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অন্তত ৩৫ জন নিরাপত্তাকর্মী থাকেন। তাঁদের মধ্যে রাজ্য পুলিশের কমান্ডোরাও থাকেন। পাশাপাশি, পাইলট কার-সহ একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। অন্যদিকে ‘ওয়াই ক্যাটেগরি’ নিরাপত্তায় সাধারণত তিন থেকে চার জন নিরাপত্তাকর্মী থাকেন, যাঁদের মধ্যে দু’জন সশস্ত্র রক্ষী থাকেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং বিশিষ্টজনদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে এক বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, প্রকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলে কাউকে অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে না।
এরপর একে একে বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। প্রথমে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়। সরকার জানায়, সাংসদ হিসেবে তিনি যে নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, শুধুমাত্র সেটুকুই বহাল থাকবে। পরে আরও একাধিক তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকের নিরাপত্তায় কাটছাঁট করা হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।