প্রথম পাতা খবর মমতার হাতছাড়া তৃণমূল? ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রত, সঙ্গে রয়েছেন অন্যান্যরাও

মমতার হাতছাড়া তৃণমূল? ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় ঋতব্রত, সঙ্গে রয়েছেন অন্যান্যরাও

14 views
A+A-
Reset

তৃণমূল কি ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে—এই প্রশ্ন জোরালো হওয়ার মধ্যেই বুধবার বিধানসভায় নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল। দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হলেন ৫৯ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে। একে একে বিধানসভায় পৌঁছাতে থাকলেন অরূপ রায়, শিউলি সাহা, আখরুজ্জামানের মতো বিধায়করা।

এছাড়াও সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, চন্দ্রনাথ সিংহ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের অনেক বিধায়ক সেখানে উপস্থিত হন। সাবিনা ইয়াসমিন জানান, আজ বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য বৈঠক করবেন তাঁরা। কার ডাকা বৈঠক—উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘আমরা সবাই।’’

বিধানসভায় ঢোকার আগে চন্দ্রনাথ সিংহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা মেনে নিয়েছেন। বিধায়ক সন্দীপন সাহা দাবি করেন, দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কই তাঁদের পাশে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই বিধানসভার নৌশাদ আলি কক্ষে বসেছে বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠক।

অন্যদিকে, বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার স্পিকারকে চিঠি পাঠান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু স্পিকার কলকাতায় না থাকায় সেই চিঠি গ্রহণ করা হয়নি। বিদ্রোহী শিবির দাবি করে, তারা ৫২-৫৫ জন বিধায়কের তালিকা নিয়ে স্পিকারের কাছে প্রকৃত বিরোধী দলের মর্যাদা দাবি করবে।

বুধবার সকালে সেই দাবি মতোই হাজির হয়েছে বিদ্রোহী শিবির। এখন প্রশ্ন—দলের রাশ কি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে, না কি বিদ্রোহী শিবিরের হাতে যাবে? গত কয়েক দিন ধরেই সইকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল দলের অন্দরে। এর মধ্যেই ঋতব্রত অবশ্য দাবি করেন, সবই ‘জল্পনা’।

তিনি বলেন, বিধানসভায় কাজেই এসেছেন। এর আগে আড্ডা দিতেই যেতেন। ৫০ জন বিধায়ক তাঁর পাশে রয়েছেন কিনা—জিজ্ঞাসায় ঋতব্রত বলেন, ‘‘আমি আমার এবং সন্দীপন ছাড়া কারও দায়িত্ব নিতে পারব না।’’ সোমবারই দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন এই দুই বিধায়ক।

তাদের দাবি, ৬ মে-র বৈঠকে বিরোধী দলনেতা বাছার কোনও প্রস্তাবই হয়নি। স্রেফ উপস্থিতির খাতায় করানো সইকে জালিয়াতি করে রেজোলিউশনে বদলে দেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা ও মুখ্যসচেতক কে হবেন—এই নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়েছে প্রাক্তন শাসকদল। ৪ মে ফল ঘোষণার পর ৬ মে কালীঘাটের বৈঠকে বিধায়কেরা হাত তুলে মমতাকে সব দায়িত্ব দেওয়ার সায় দেন। তার পর শোভনদেবের নাম জানানো হলেও বিধানসভা তা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ পরিষদীয় দলের পদাধিকারী নির্বাচন নিজেদের বৈঠকেই করতে হয়। ১৯ মে কালীঘাটে ফের বৈঠকে বিধায়কদের সই করানো হয়—যা মূলত ৬ মে তারিখের কার্যবিবরণীতে। সেই সইকাণ্ডেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৃণমূলে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.