দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের ঘাম ছুটিয়েছে তীব্র গরম। দিন কয়েক ধরেই তাপমাত্রার পারদ যেন থামতে চাইছে না। সাধারণ মানুষের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে অস্বস্তিকর এই পরিস্থিতিতে। তবে এই দাবদাহের মাঝেই স্বস্তির সম্ভাবনা দেখিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
চাতক পাখির মতো বর্ষার অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর দিয়েছে মৌসম ভবন। মূলত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশের কথা থাকলেও, এবার তা কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছে। আগামী ৪ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
ভারতের মূল ভূখণ্ডে মৌসুমী বায়ু প্রবেশের পর উত্তরবঙ্গে ১০ জুন বর্ষা আসার দিনক্ষণ থাকলেও, পশ্চিমবঙ্গে এখনও স্পষ্ট দিন ঘোষণা করেনি আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এখন শুধু কেরলে বর্ষা নামার পর এ রাজ্যে মৌসুমী বায়ু প্রবেশের অপেক্ষায় তারা।
তাপমাত্রার চিত্র বলতে গেলে, গতকাল দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বীরভূমের সিউড়িতে ৩৭ ডিগ্রি এবং শ্রীনিকেতনে ৩৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানে ৩৭ ও পশ্চিম বর্ধমানে ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠেছিল।
বাঁকুড়ায় পারদ পৌঁছেছিল ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তবে সাত জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পুরুলিয়ায়, সেখানে পারদ ছুঁয়েছিল ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া ঝাড়গ্রামে ৩৭.৮ ও মেদিনীপুরে ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল।
তবে তীব্র গরমের মধ্যেই আজ বুধবার সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায়। কালবৈশাখীর কারণে ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
বীরভূম-সহ বাকি পাঁচ জেলার জন্য আজ বড় কোনো সতর্কতা নেই। আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস বলছে, পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমে বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে আগামী শনিবার একই ধরনের সতর্কতা রয়েছে। তবে পশ্চিম মেদিনীপুরে শুক্রবার থেকেই আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়ে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।