কলকাতা: তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্তকে। সোমবার গভীর রাতে রাজারহাটের রাইগাছি এলাকার বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। পরে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
জানা গিয়েছে, বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে সল্টলেকের এক ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তোলাবাজির পাশাপাশি হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং সেই নিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল।
অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে পুলিশ রাইগাছিতে সব্যসাচীর বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য সব্যসাচী দত্তকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় তিনি অভিযোগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সব্যসাচীর দাবি, অভিযোগকারী ব্যক্তি ২০১৮ সালে বিধাননগর উত্তর থানায় গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং একাধিক প্রতারণার মামলায় তাঁর নাম রয়েছে। তিনি বলেন, “২০১৮ সালে ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্য এবং এক ব্যবসায়ী আমার কাছে এসেছিলেন তাঁকে মুক্ত করার জন্য সাহায্য চাইতে।”
মেডিক্যাল পরীক্ষার পর তাঁকে বিধাননগর আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে একের পর এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সোমবারই ফলতার ‘পুষ্পা’ নামে পরিচিত জাহাঙ্গির খানকে নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।
এদিকে গত মাসে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। পরবর্তীতে তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক কাউন্সিলরও গ্রেফতার হন।
রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। আদালতে পেশের পর তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁর হেফাজতের আবেদন করতে পারে বলে সূত্রের খবর।