খবর অনলাইন ডেস্ক: বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোয় ইতিহাস গড়ল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের দ্বিতীয়ার্ধের জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজ়িলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল নরওয়ে। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশটি।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নরওয়ে। প্যাট্রিক বার্গ বল জালে জড়ালেও, আলেকজান্ডার সোরলোথ অফসাইড থাকায় সেই গোল বাতিল হয়। এরপর ১৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগ পায় ব্রাজ়িল। নরওয়ের ডিফেন্ডার ক্রিস্টোফার আজেরের ফাউলে পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। কিন্তু ব্রুনো গিমারায়েসের স্পট-কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড।
প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ ব্রাজ়িলের একাধিক আক্রমণ রুখে দেন নিল্যান্ড। মার্টিন ওডেগার্ডের ভুল থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেও সফল হতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫৮ মিনিটে মাথেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক। মাঠে নেমেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। এরপর ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রস থেকে ব্রাজ়িলের ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলকে পরাস্ত করে হেডে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। দীর্ঘ সময় নিষ্প্রভ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলকে এগিয়ে দেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার।
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আবারও জ্বলে ওঠেন হালান্ড। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত নিচু শট জালে জড়িয়ে গেলে কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় নরওয়ের ঐতিহাসিক জয় এবং কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্রাজ়িল পায় দ্বিতীয় পেনাল্টি। লিও অস্তিগার্ডের বিরুদ্ধে কাসেমিরোকে ফাউলের অভিযোগে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন রেফারি ইসমাইল এলফাথ। স্পট-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান কমান নেইমার। তবে তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।
এই হারের ফলে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আগেই বিদায় নিতে হল ব্রাজ়িলকে। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠে ইতিহাস গড়ল নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকো।
নরওয়ের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড, যিনি একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজ়িলকে হতাশ করেন। অন্যদিকে, জোড়া গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির সমতায় পৌঁছে গেছেন আর্লিং হালান্ড।