প্রথম পাতা খেলা স্পেনকে রুখে রাতারাতি নায়ক, তবু চোখে জল ভোজ়িনহার; বিশ্বকাপের মঞ্চে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প

স্পেনকে রুখে রাতারাতি নায়ক, তবু চোখে জল ভোজ়িনহার; বিশ্বকাপের মঞ্চে হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প

7 views
A+A-
Reset

ওয়াশিংটন: ইউরোপের শক্তিশালী দল স্পেনের বিরুদ্ধে প্রায় একার হাতে লড়াই করে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কাবো ভার্দের গোলরক্ষক ভোজ়িনহা। ৪০ বছর বয়সে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে নেমে একের পর এক দুর্দান্ত সেভে স্পেনের নিশ্চিত গোল রুখে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাসের বদলে দেখা গেল কান্নায় ভেঙে পড়া এক ফুটবলারকে।

স্পেনের বিরুদ্ধে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর আমেরিকার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগঘন কণ্ঠে ভোজ়িনহা বলেন, “ম্যাচের পর চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। ছোট থেকে ঠাকুমা-দাদুর কাছে বড় হয়েছি। আমাকে সব সময় আগলে রাখতেন তাঁরা। অথচ এমন একটা মুহূর্তে তাঁরা আমার সঙ্গে নেই। মা-ও আসতে পারেনি ভিসা সমস্যার জন্য। সকলের ভিসার জন্য যে টাকা চাওয়া হয়েছিল, সেটা আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব হয়নি।”

বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেও পরিবারের সদস্যদের গ্যালারিতে বসিয়ে সেই মুহূর্ত ভাগ করে নিতে না পারার আক্ষেপই তাঁর চোখের জলে ধরা পড়েছে। আমেরিকার কড়া ভিসা নীতি এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বিশ্বকাপ দেখতে যেতে পারেননি।

তবে মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল অবিশ্বাস্য। অন্তত পাঁচটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে স্পেনের আক্রমণভাগকে কার্যত হতাশ করে দেন তিনি। গোটা ম্যাচে মাত্র একবারই পরাস্ত হন। স্পেনের ফেরান টোরেসের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বাকি সময় জুড়ে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কাবো ভার্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও তুলে দেয় ফিফা। আর রাতারাতি বদলে যায় তাঁর পরিচিতি। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজমাধ্যমে তাঁর অনুসরণকারীর সংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষ বেড়ে যায়। যাঁকে সোমবার পর্যন্ত কাবো ভার্দের বাইরে খুব কম মানুষ চিনতেন, তিনিই এখন বিশ্ব ফুটবলের নতুন নায়ক।

কাবো ভার্দের মিন্ডেলো শহরে জন্ম ভোজ়িনহার। দীর্ঘ ফুটবল জীবনে মলডোভা, রোমানিয়া, সাইপ্রাস এবং পর্তুগালের বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন তিনি। ২০১২ সাল থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন এবং দেশের হয়ে ৯০টিরও বেশি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

বিশ্বকাপে তাঁর অভিষেকও ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। ৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলেই তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় প্রবীণতম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ অভিষেকের নজির গড়েছেন। এই তালিকায় তাঁর আগে রয়েছেন মিশরের কিংবদন্তি গোলরক্ষক এসাম এল হাদারি, যিনি ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ৪৫ বছর বয়সে প্রথমবার খেলেছিলেন।

ফুটবলের মঞ্চে এমন গল্পই বারবার মনে করিয়ে দেয়, পরিসংখ্যানের বাইরেও খেলার একটা মানবিক মুখ আছে। স্পেনের বিরুদ্ধে ভোজ়িনহার লড়াই শুধু একটি ম্যাচের গল্প নয়, বরং স্বপ্ন, সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অপূর্ণতার এক আবেগঘন কাহিনি।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.