পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়
সেই আদিম যুগ থেকে মানব সভ্যতার অগ্রগতি হয়েছে বহু দূর—আধুনিকতার দিকে। যা মানুষের, সমাজের, রাষ্ট্রের এবং আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নতি ঘটিয়েছে।
তবু তারই পাশাপাশি আজও আমরা দেখতে পাই সভ্যতার আনাচে-কানাচে আদিমতার ছাপ। যা আমাদের শুভ চিন্তা-ভাবনাগুলোকে যন্ত্রণা দেয়। মানুষের হাতেই বিনষ্ট হয় মানবিকতা, সহিষ্ণুতা এবং সংবেদনশীলতা।
এটা মোটেই কাম্য নয়।
ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সব স্তরেই মূল্যবোধনির্ভর পরম্পরার মধ্য দিয়ে সভ্যতার ঐক্য এবং সম্প্রীতির ঐতিহ্যের প্রতি আমাদের অত্যন্ত যত্নশীল হতে হবে। না হলে এক চরম সভ্যতার সংকট দেখা দেবে, যখন মানুষের সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হবে।
আমাদের এই বাংলায় উনবিংশ ও বিংশ শতকের বহু নিদর্শন আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেগুলিকে আমাদের যত্নসহকারে রক্ষণাবেক্ষণ করতেই হবে। আজকের যুগের আধুনিক স্বার্থনির্ভর মানসিকতায় সেগুলিকে প্রাধান্য না দেওয়া আমাদের কূপমণ্ডূকতার পরিচয়। এর ফলেই ঘটতে পারে আমাদের আত্মনাশ। হারিয়ে যাবে আমাদের অতীতের সমস্ত শুভ ও সুন্দর বোধ।
এই কথাগুলি বলার উদ্দেশ্য হলো—আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে, নির্বাচন চলাকালীন এবং নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণার পরও যেন আমাদের এই বাংলার সুস্থ ও সম্প্রীতিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। কোথাও যেন কোনও হানাহানি, মারামারি বা বিবাদের অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে।
বিগত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে এই বাংলায় বহু নির্বাচন হয়েছে। অনভিপ্রেত দু-একটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় কোনও অশান্তি দেখা যায়নি। কোনওভাবেই যেন উগ্রতা বা প্রতিহিংসাপরায়ণতা সৃষ্টি না হয়—এই ঐতিহ্য ও পরম্পরা বজায় রাখাই আমাদের জরুরি কর্তব্য ও দায়িত্ব।
পক্ষ-বিপক্ষ নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে এবারের নির্বাচন হোক গণতন্ত্রের এক মহান উৎসব—এটাই আমাদের বিনম্র প্রার্থনা। সেই উৎসব উদযাপনে সবাই সামিল হোক—এটাই আবেদন।
কারণ আমাদের এই বাংলার সংস্কৃতি হলো সকলকে নিয়ে সহাবস্থান। সেই ঐতিহ্য এবং ঐক্যকে বাঁচিয়ে রাখার দায়বদ্ধতা আমাদের সবার—আমরা যারা নাগরিক এবং রাজনৈতিক দলগুলিও।
সেদিকে যেন কোনওভাবেই ত্রুটি না থাকে—এটাই এই প্রতিবেদনের আবেদন।