বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে টানটান রাজনৈতিক নাটকের মাঝেই বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি অবিলম্বে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ করা একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
দলের ঘোষণার ফলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস, সংখ্যালঘু সেল-সহ বিভিন্ন শাখা সংগঠন এবং কমিটি কার্যত বিলুপ্ত হল। নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো গঠন করা হবে কি না এবং হলে কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নেওয়া হল, যখন বিধানসভার ভিতরে তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত প্রকাশ্যে চলে এসেছে। বুধবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর কাছে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি জমা পড়েছে। ওই বিধায়কেরা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
চিঠিতে উপদলনেতা হিসেবে সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। মুখ্য সচেতক পদে আখরুজ্জামানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিদ্রোহী বিধায়কদের ওই চিঠিতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসলে সংগঠনের উপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল হতে পারে। বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে নতুন করে সাংগঠনিক রদবদলের পথেই হাঁটতে পারে দল।
এদিকে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দল এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিধানসভার সংখ্যার লড়াই, বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের এই ত্রিমুখী চাপে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য রাজনীতি এখন নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ কোন দিকে গড়ায়।