রাজ্য সরকারি কর্মীদের উপস্থিতিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর নির্দেশিকা জারি করল অর্থ দফতর। আগামী ১৫ জুন ২০২৬ থেকে নবান্নে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হচ্ছে ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম। এই নতুন ব্যবস্থায় অফিসে ঢোকার সময় এবং বেরোনোর সময় প্রতিটি কর্মী ও আধিকারিককে নিজের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে।
সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে উপস্থিতি ‘লেট’ হিসেবে গণ্য হবে। আর সকাল ১১টার পরে কেউ এলে সেটি সরাসরি ‘অনুপস্থিত’ ধরা হবে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে কেউ অফিস থেকে বেরিয়ে গেলে তা ‘আর্লি ডিপার্চার’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
একই দিনে দেরিতে আসা এবং আগে বেরিয়ে যাওয়া মানে ‘Absent in Office’ ধরা হবে। সেক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১ দিনের Casual Leave কাটা যাবে। টানা তিন দিন দেরি করা বা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলে বাধ্যতামূলকভাবে ১ দিনের CL বা CCL নিয়ে নেওয়া হবে।
অফিস ছাড়ার সময় উপস্থিতি রেকর্ড না করলেও সেটি অনুপস্থিতি হিসাবে গণ্য হবে। অর্থ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কঠোর পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কর্মীদের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলা ফেরানো।
অন্যদিকে রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির খবর। তাঁদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেওয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। গত শুক্রবার থেকেই এই টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে বলে নবান্নের অর্থ দফতর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।
২০০৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যে ডিএ বকেয়া রয়েছে সরকারি কর্মচারীদের, আপাতত তা দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধুমাত্র অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদেরই এই টাকা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে যাঁরা রাজ্য সরকারে কর্মরত, তাঁরা এখনও ডিএ-র বকেয়া পাচ্ছেন না।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া মেটানো হবে। তার পরে বর্তমান কর্মচারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নবান্নের অর্থ দফতরের এক কর্তা জানান, দীর্ঘদিনের এই বকেয়া পরিশোধে রাজ্য কোষাগারে যথেষ্ট চাপ পড়লেও, অবসরপ্রাপ্তদের মুখে হাসি ফোটানোই অগ্রাধিকার। উপস্থিতির কঠোর নির্দেশিকা এবং অবসরপ্রাপ্তদের ডিএ প্রদান—দুটি সিদ্ধান্তই রাজ্য সরকারের কর্মী নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে শৃঙ্খলা কড়া করা, অন্যদিকে পুরনো বকেয়া মেটানোর উদ্যোগ ইতিবাচক বলেই মনে করছে কর্মী মহলের একটি বড় অংশ।