ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বিধানসভায় পরিষদীয় দলে ভাঙনের পর এবার সংসদীয় দলেও ফাটল ধরতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহেই আচমকা দিল্লি সফরে গেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তিনি দিল্লি গিয়েছেন। আগামী ৮ জুন বিজেপি-বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিষেকেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁর দিল্লি যাত্রা রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিধানসভায় তৃণমূলের একাংশ বিধায়ক নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে আলাদা শিবির গড়েছে। সূত্রের দাবি, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সদস্য ওই শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনা, লোকসভাতেও কি একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে চলেছে? সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই তথাকথিত ‘অপারেশন লোটাস’ শুরু হতে পারে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে সাংসদদের একাংশ নিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠনের জল্পনাও ছড়িয়েছে। দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বিধিনিষেধ এড়াতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হবে। সেই সংখ্যা ১৮ বা ১৯ হতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
এই পরিস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দলের সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, পরিস্থিতি পর্যালোচনা বা সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই তাঁকে দিল্লি পাঠানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
অন্যদিকে, সই জালিয়াতি বিতর্কেও চাপের মুখে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলায় আগামী ৮ জুন তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে সিআইডি। এর আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি ১০ দিনের সময় চেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্তকারী সংস্থা সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি এবং নির্ধারিত দিনেই হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, সিআইডির জেরার মুখোমুখি হওয়ার আগে তাঁর দিল্লি সফরের সঙ্গে অন্য কোনও রাজনৈতিক বা আইনি কৌশল জড়িত রয়েছে কি না। যদিও তৃণমূলের তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।