প্রথম পাতা খবর ‘ওদের নেতা এখন নরেন্দ্র মোদী’, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের নিশানা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

‘ওদের নেতা এখন নরেন্দ্র মোদী’, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের নিশানা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

51 views
A+A-
Reset

নয়াদিল্লি: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের মধ্যে বিভাজন আরও প্রকট হয়ে উঠল। বিদ্রোহী শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করলেন, “ওদের নেতা পাল্টে গিয়েছে। ওদের নেতার নাম নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু ডাইরেক্টলি বলতে পারছে না যে বিজেপি করি।”

সোমবার লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন বিদ্রোহী অবস্থান নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবিরে রয়েছেন মাত্র আটজন সাংসদ, যাঁদের অন্যতম কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে কীর্তি আজাদকে পাশে নিয়ে কল্যাণ বলেন, “যদি রাজনৈতিক নৈতিকতা থাকে, যদি সৎ হন, তবে নিজেদের তৃণমূলের সাংসদ বলবেন না।” পাশাপাশি বিদ্রোহী সাংসদদের পদত্যাগ করে নতুন রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করারও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়ের উদাহরণ টেনে আনেন কল্যাণ। তাঁর বক্তব্য, সুখেন্দুশেখর দল ছাড়ার পাশাপাশি সাংসদ পদও ছেড়েছেন, যা রাজনৈতিক সততার উদাহরণ।

কল্যাণের দাবি, বিদ্রোহী সাংসদদের কোনও অভিযোগ থাকলে তা দলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু দলের কাছে এমন কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি বলে তিনি দাবি করেন। সেই সঙ্গে তিনি অভিযোগের কোনও লিখিত প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ্যে আনার আহ্বান জানান।

বিদ্রোহী মহিলা সাংসদদেরও কটাক্ষ করতে শোনা যায় কল্যাণকে। তিনি বলেন, “কখনও কোনও অভিযোগ জানায়নি। কিন্তু এখন নানা কথা বলা হচ্ছে।”

শুধু তাই নয়, বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়কেও নিশানা করেন তিনি। কল্যাণের দাবি, “কেষ্ট (অনুব্রত মণ্ডল) না থাকলে ২০০৯ সালে শতাব্দী রায় জিততে পারতেন না।”

আরজি কর-কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে বিদ্রোহী চিকিৎসক-সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শর্মিলা সরকার কতটা সক্রিয় ছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই সঙ্গে কল্যাণ দাবি করেন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার যখন দলের চিফ হুইপ ছিলেন এবং শতাব্দী রায় ডেপুটি লিডার ছিলেন, তখন সংসদীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতেন। তাঁর কথায়, “সময় খুব দামি। তখন আমি এবং মহুয়া মৈত্র নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করেছি।”

উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বর্তমানে মমতা-অনুগত শিবিরের অন্যতম মুখ। যদিও অতীতে মহুয়ার সঙ্গে কল্যাণের প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, কল্যাণের এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ফলে লোকসভায় তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সংঘাত আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.