ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই লড়াই হলে তার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে দুরন্ত সূচনা করল ভারত।
বার্মিংহ্যামে প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৭০ রান তোলে। জবাবে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৬ রানে। ভারতের জয়ের নায়ক দীপ্তি শর্মা। চার ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন শ্রী চরণি, যিনি ৩ উইকেট নেন।
টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। তবে শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের প্রথম ওভারেই আউট হন শেফালি বর্মা। এরপর দ্রুত ফিরে যান জেমাইমা রদ্রিগেজও।
দলের কঠিন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন স্মৃতি মন্ধানা এবং হরমনপ্রীত। তৃতীয় উইকেটে ৯১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ভারতকে বড় রানের ভিত গড়ে দেন তাঁরা। স্মৃতি ৪৪ বলে ৬৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। হরমনপ্রীত করেন ৩৬ রান।
শেষ দিকে ঝড় তোলেন বাংলার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষ। মাত্র ১৭ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতের স্কোর ১৭০-এ পৌঁছে দেন তিনি।
১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান কিন্তু শুরুটা ভালোই করেছিল। পাওয়ার প্লে-তে ৫২ রান তুলে তারা ম্যাচে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেয়। ওপেনার মুনিবা আলি ও গুল ফিরোজ়া দ্রুত রান তুলছিলেন।
কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দীপ্তি শর্মা। নিজের প্রথম ওভারেই ফিরোজ়াকে আউট করে পাকিস্তানকে ধাক্কা দেন তিনি। এরপর আয়েশা জাফরকেও সাজঘরে ফেরান ভারতীয় স্পিনার।
পাওয়ার প্লে-র পর ভারতীয় স্পিন আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় দেখায় পাকিস্তানকে। দীপ্তি, শ্রী চরণি এবং শ্রেয়াঙ্কা পাতিলের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। ৪১ রান করা মুনিবা আলির রান আউট পাকিস্তানের জয়ের শেষ আশা ভেঙে দেয়।
শেষ পর্যন্ত ১৭ ওভারে ১০৬ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। দীপ্তি শর্মা ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন।
তবে বড় জয়ের পরও কিছু উদ্বেগ রয়ে গেল ভারতের শিবিরে। দুই পেসার অরুন্ধতী রেড্ডি ও ক্রান্তি গৌড় খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। এছাড়া উইকেটের পিছনে রিচা ঘোষের একাধিক ভুল নজরে এসেছে। তিনি দুটি সহজ ক্যাচ ফেলেন এবং একটি রান আউটের সুযোগ নষ্ট করেন। শক্তিশালী দলগুলির বিরুদ্ধে এমন ভুল ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিশ্বকাপের শুরুতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এমন দাপুটে জয় ভারতের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিল। ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ পারফরম্যান্স করে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে শক্তিশালী বার্তা দিল হরমনপ্রীত কৌরের দল।