প্রথম পাতা খবর মমতা-পন্থী তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা চন্দ্রিমার, বললেন ‘বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে’

মমতা-পন্থী তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা চন্দ্রিমার, বললেন ‘বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে’

8 views
A+A-
Reset

কলকাতা: মেট্রোপলিটন ভবনের দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে তিনি জানান, তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তিনি আর দায়িত্বে থাকতে চান না।

চন্দ্রিমা তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, গত ৩ জুন কালীঘাটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাঁকে যে দলের রাজ্য সভানেত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। পাশাপাশি, তৃণমূল এবং দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী (সিগনেটরি) হিসেবেও আর দায়িত্ব পালন করবেন না বলে জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে দলের প্রতিনিধিত্ব এবং দলের হয়ে সরকারি যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব থেকেও নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক সূত্রের খবর, শুক্রবার মেট্রোপলিটন ভবনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত। অভিযোগ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের নেতারা মেট্রোপলিটন ভবনে গেলে সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রিমা। পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করে প্রশ্ন তোলেন, তিনি কি ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের হাতে দলীয় কার্যালয় তুলে দিয়েছেন? সেই ঘটনার পরই নিজের আনুগত্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করেন চন্দ্রিমা।

শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে থাকে, তখন সেই জায়গায় ফিরে যাওয়া যায় না।” তবে কারও বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করছি না। হয়তো কোথাও আমি নিজেই ব্যর্থ হয়েছি।”

এদিকে, চন্দ্রিমার পুত্র সৌরভ বসু সম্প্রতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই চন্দ্রিমার এই পদত্যাগ নতুন করে রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি করেছে।

চন্দ্রিমার ইস্তফা প্রসঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পান থেকে চুন খসলেই রক্তচক্ষুর মুখে পড়তে হত। সেই সংস্কৃতি এখন অতীত।” অন্যদিকে, মমতা-পন্থী তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি এখনও চন্দ্রিমার চিঠি দেখেননি, তাই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবেন না।

উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ মহলে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম বিশ্বস্ত মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অর্থ ও স্বাস্থ্য দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। চলতি বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হলেও দলের রাজ্য সভাপতির পদে তাঁকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সেই পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে কার্যত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন চন্দ্রিমা।

আরও খবর

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.