পঙ্কজ চট্টোপাধ্যায়
সারাবিশ্বে সবচেয়ে যে খেলাটি পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ দেখেন, খেলা দেখে উত্তেজনায়, আনন্দে মেতে ওঠেন, সেই খেলার নাম হলো “ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা”। প্রতি চার বছর অন্তর এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়। এবার ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ২৩তম ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬। এর আয়োজক দেশ হল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। এবারে মোট ৪৮টি দেশ ১২টি গ্রুপে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। পুরো টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলা হবে।
এবারের ফিফা ওয়ার্ল্ড সকার (Soccer) টুর্নামেন্টের ম্যাসকট হয়েছে তিনটি চরিত্র— (১) “ম্যাপল” (Maple), কানাডার এক ধরনের ক্ষিপ্রগতির হরিণ, যে ক্ষিপ্রতায় গোল রক্ষা করতে পারে। (২) “জায়ু” (জাগুয়ার), মেক্সিকোর ম্যাসকট, যে অতি ক্ষিপ্রতায় স্ট্রাইকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে। (৩) “ক্লাচ ঈগল” (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের), এক সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তির মিডফিল্ডার।
আর এবারের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার “ম্যাচ বল”-এর নাম হচ্ছে “এডিডাস ট্রিওন্ডা”। আমাদের এই রাজ্য বা দেশ থেকে খেলা দেখা যাবে প্রতিদিন সকালে।
বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু খেলার প্রতিযোগিতা নয়, সারাবিশ্বের ফুটবলারদের স্বপ্নপূরণের মঞ্চ। তাদের সাফল্য, ব্যর্থতা, জয়-পরাজয় ইত্যাদির প্রতিচ্ছবি। এই বিশ্বকাপের আসর থেকেই পৃথিবী পেয়েছে এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো (পেলে), দিয়েগো মারাদোনা, জিনেদিন জিদান, সক্রেটিস, জিকো, পাওলো রোসি, লেভ ইয়াসিন, মিশেল প্লাতিনি প্রমুখদের সোনালি ইতিহাস।
সেই পরম্পরার পথ ধরেই এবারের বিশ্বকাপে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিতে চলেছেন সারা দুনিয়ার চারজন ফুটবলার— লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো এবং লুকা মদ্রিচ।
২০০৬ সালে বিশ্বকাপ খেলা শুরু করেন মেসি ও রোনাল্ডো। ২০১০ সালে লুকা মদ্রিচ এবং ২০১৪ সালে নেইমার জুনিয়র। এঁদের খেলা দেখতে দেখতে পৃথিবীর মানুষ গত ১২ থেকে ২০ বছর ধরে বড় হয়েছে। এবার সকলেরই বয়স প্রায় ৪০-এর কাছাকাছি। তাই হয়তো এই চারজনেরই এটাই শেষ বিশ্বকাপ।
আর্জেন্টিনার এক অখ্যাত শহরের অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের ছেলে মেসি নিজের প্রতিভার গুণে আজ বিশ্বসেরা। মাদেইরার অতি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা রোনাল্ডো শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসকে সম্বল করে আজ অন্যতম বিশ্বসেরা। ব্রাজিলের সাও পাওলোর বস্তিতে বড় হয়ে ওঠা নেইমার আজ ফুটবলের কিংবদন্তি। আর একজনের কথা না বললেই নয়— লুকা মদ্রিচ। ছোটবেলায় যুদ্ধের কারণে তাঁকে বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। অকালে নিজের দাদাকে হারিয়েছেন। দিনের পর দিন শরণার্থী শিবিরে জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন।
এইসব নানান প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি, রোনাল্ডো, নেইমার এবং মদ্রিচ। তাঁদের এবারের বিশ্বকাপই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ। কারণ সকলেরই বয়স প্রায় ৪০-এর কাছাকাছি হয়ে গিয়েছে।
সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপ এই চার কিংবদন্তি নক্ষত্রের কাছে শেষ পরীক্ষা। মেসি ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ জয় করেছেন। দেখা যাক, রোনাল্ডো, নেইমার এবং মদ্রিচ তাঁদের এই শেষ বিশ্বকাপের আসরে কী করেন। শেষ বিশ্বকাপে কি তাঁরা ইতিহাস গড়তে পারবেন? জানি না। তবে ফুটবলের নির্মম সত্য হলো, সব মহান কৃতি ফুটবলারের ঝুলিতে বিশ্বকাপ নাও থাকতে পারে, তবুও তাঁরা কিংবদন্তি হয়ে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।